রাজনীতির আঙিনায় পা দিয়েই কি তবে ‘ভাগ্যবিধাতা’র ওপর চরম ভরসা রাখছেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়? দক্ষিণী রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই চর্চা— রিকি রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেল। তিনি বিজয়ের কেবল ব্যক্তিগত জ্যোতিষী নন, ২০২৪ সালে যখন বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোদ তাঁর ভক্তরাই সন্দিহান ছিলেন, তখন এই পণ্ডিতই ঘোষণা করেছিলেন বিজয়ের ‘রাজযোগ’। আর এবার সেই নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণীর পুরস্কার হিসেবে পণ্ডিতকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ের (সিএমও) গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালেন ‘থালাপথি’। সোজা কথায়, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে রাজ্যের 'অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি' পদে নিযুক্ত করলেন। 

 

 

রাজ্য সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক এক নির্দেশে জানানো হয়েছে, রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (ওএসডি-পলিটিক্যাল) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। জ্যোতিষী থেকে সরাসরি প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এমন নাটকীয় উত্তরণ ভারতীয় রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। জানিয়ে রাখা ভাল. দীর্ঘদিন ধরে বিজয়ের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন। বিজয়ের ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।


বিজয় যখন তাঁর নতুন দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজগম’ (টিভিকে) গঠনের ঘোষণা করেন, তখনই রাধন পণ্ডিত সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। বিজয়ের কুষ্ঠি বিচার করে তিনি দাবি করেন, এই তারকার গ্রহ-নক্ষত্রের বিন্যাসে এক ‘সুনামি’র মতো শক্তি লুকিয়ে আছে, যা তামিলনাড়ুর চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দেবে।

তিনি শুধু বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগাম বার্তা দেননি, বরং দাবি করেছিলেন— বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর মন্দিরগুলো বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন জিতে বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসতেই পণ্ডিতের সেই ‘ভবিষদ্বাণী’র জোর যেন কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

কে এই রাধন পণ্ডিত? চেন্নাইয়ের সাধারণ জ্যোতিষী থেকে দিল্লির হাই-প্রোফাইল ‘পণ্ডিত’ হয়ে ওঠার সফরটি চমকপ্রদ।দিল্লি কানেকশন: ২০০৮ সালে চেন্নাই ছেড়ে দিল্লিতে পাড়ি জমান ভেট্রিভেল। সেখানে গিয়েই তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘রাধন পণ্ডিত’ রাখেন।ভিআইপি ক্লায়েন্ট: গত চার দশকে তাঁর কাছে মাথা ঠেকিয়েছেন বিজেপি, কংগ্রেস থেকে শুরু করে ডিএমকে  ও এআইএডিএমকে-র তাবড় নেতারা। সংখ্যার খেলা আর গ্রহের ফেরে রাজনীতিকদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে তিনি সিদ্ধহস্ত।

 

 

 


গত ১০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজয়। আর দুই দিনের মাথাতেই নিজের জ্যোতিষীকে রাজকীয় পদে বসানো নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, প্রশাসন কি তবে এখন শাস্ত্রীয় নিদান আর গ্রহের ফেরে চলবে? সাধারণ মানুষের ভোটে জেতার পর প্রশাসনিক কাজে জ্যোতিষীকে অগ্রাধিকার দেওয়া কি যুক্তিসঙ্গত?তবে বিজয়ের অনুরাগী এবং দলের কর্মীদের মতে, এটি শুধুই অন্ধবিশ্বাস নয়, বরং রাধন পণ্ডিতের চার দশকের রাজনৈতিক ও কৌশলগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর একটি প্রয়াস।

তামিলনাড়ুর আকাশে এখন নতুন সূর্য না কি পুরনো প্রথার নতুন সংস্করণ— বিজয়ের এই মাস্টারস্ট্রোক প্রশাসনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।