বলিউডের অন্যতম মেধাবী ও আলোচিত পরিচালক সুজয় ঘোষ অবশেষে এক দীর্ঘমেয়াদী দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পেলেন। তাঁর ২০১৬ সালের ছবি ‘কাহানি ২’-এর চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আদালতে চক্কর কাটতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটি খারিজ করে সুজয়কে ক্লিনচিট দেওয়ার পর, এক অনুষ্ঠানে নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন পরিচালক।
চিত্রনাট্য চুরির ‘ক্রিমিনাল’ তকমা
স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া আয়োজিত একটি ইভেন্টে সুজয় জানান, ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তি উমেশ প্রসাদ মেহতা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, সুজয় তাঁর ‘সবক’ নামক একটি পাণ্ডুলিপি চুরি করে ‘কাহানি ২’ বানিয়েছেন।
সুজয়ের কথায়, “শুরুতে আমি এই বিষয়টাকে পাত্তাই দিইনি। ভেবেছিলাম কেউ ভুল করে এমন বলছে। কিন্তু সেটা ছিল আমার সবথেকে বড় ভুল। হঠাৎ দেখলাম আমার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস করা হয়েছে। আমাদের দেশে কপিরাইট বা আইপি চুরি একটা ফৌজদারি অপরাধ। আমাকে বলতে শুরু করা হল যে আমি নাকি ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে চিত্রনাট্য নিয়েছি, এমনকী তাঁর বাড়িতে গুন্ডাও পাঠিয়েছি! অথচ আমি তো সেই লোকটাকে চিনিই না।”
বিদ্যা বালন ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। উমেশ মেহতা একের পর এক নতুন অভিযোগ যোগ করতে থাকেন, যা সুজয়ের জন্য অত্যন্ত ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুজয় জানান, এই লড়াই লড়তে লড়তে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন।শেষ পর্যন্ত পর্দার নেপথ্যের আসল ‘কাহানি’ সামনে আনে স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা সুজয়ের চিত্রনাট্য এবং উমেশ মেহতার পাণ্ডুলিপি বিশদভাবে তুলনা করে দেখে জানায় যে, দুটির মধ্যে কোনো মিলই নেই।
স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সুজয় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। আদালত সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে গত মাসে মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। সুজয় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, “১০ বছর পর আজ আমি মুক্ত। এটা সত্যিই একটা দুঃস্বপ্ন ছিল, যা আমাকে প্রায় গ্রাস করে ফেলেছিল।”
পরিচালকের এই জয় এখন অনেক তরুণ লেখকের কাছে এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের কাজকে সুরক্ষিত রাখা এবং অযৌক্তিক আইনি লড়াইয়ের বিরুদ্ধে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, সুজয় তাঁর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেটাই বুঝিয়ে দিলেন।















