সিক্যুয়েল মানেই ঝুঁকি, এই ধারণাকে ফের একবার শুধু ভুল প্রমাণ করেই খাঁটি হলেন না সানি দেওল। রীতিমতো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন আরব সাগরে! তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বর্ডার ২’ মুক্তির দু’দিনের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে তুলে নিয়েছে ৯৩ কোটি টাকা এবং তৃতীয় দিনের আগেই ১০০ কোটি টাকার গণ্ডি ছোঁয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।
সাকনিল্ক ডট কম-এর তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির দু’দিনের বিশ্বব্যাপী মোট গ্রস কালেকশন ৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশের বক্স অফিস থেকেই এসেছে ৭৮.৬০ কোটি টাকা, আর বিদেশি বাজারে ছবিটির আয় ১৫ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ছবিটি আয় করেছিল ৪৩.৫ কোটি টাকা যা একেবারেই ইঙ্গিত দিয়েছিল বড়সড় দৌড়ের।
তুলনায় বলিউডের আর এক সাম্প্রতিক হিট ‘ধুরন্ধর’ দ্বিতীয় দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে আয় করেছিল ১.৮ মিলিয়ন ডলার, যার ফলে তার বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছিল ৮৮ কোটি টাকা। যদিও এখনও পর্যন্ত ‘গদর ২’ এই ক্ষেত্রে এগিয়ে। সানির সেই ছবিটির দু’দিনের মোট আয় ছিল ১০৮ কোটি টাকা। তবুও, ‘বর্ডার ২’-এর গতিপ্রকৃতি ট্রেড মহলে যথেষ্ট আশা তৈরি করেছে।
অনুরাগ সিং পরিচালিত এই ছবি প্রযোজনা করেছে টি-সিরিজ ও জে পি ফিল্মস। সানি দেওলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও আহান শেট্টি।প্রযোজকদের তরফে প্রকাশিত এক প্রেস নোটে জানানো হয়েছে, ছবিটি ভোরের শো থেকেই দর্শকদের প্রবল সাড়া পেয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়,“সকালের প্রথম শো থেকেই প্রেক্ষাগৃহে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ‘বর্ডার ২’ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিরাট ওপেনিং-এর তালিকায় নিজেকে নথিভুক্ত করেছে।” প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের আইকনিক ছবি ‘বর্ডার’ যেমন ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের লঙ্গেওয়ালা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল, তেমনই ‘বর্ডার ২’-ও সেই একই ঐতিহাসিক সংঘাতকে কেন্দ্র করেই নির্মিত।
ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ওয়ার্ড অফ মাউথ ছবিটির প্রচারে আরও শক্ত ভিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন প্রদর্শক ও পরিবেশকরা। ট্রেড সূত্রের অনুমান, এবারের প্রজান্ট্রান্ট দিবসের উইকেন্ড যেহেতু বেশ লম্বা তাই ছবিটি ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে।পিভিআর ইনক্স পিকচার্সের সিইও কমল গিয়ানচান্দানির কথায়,“ওপেনিং ডের তুলনায় আজ ছবির আয় আরও বড় লাফ দিয়েছে। ওয়ার্ড অফ মাউথ অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা আশা করছি উইকেন্ডে ছবিটি দুর্দান্ত সংখ্যা ছুঁবে।”
সিনেপলিস ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর দেবাং সম্পত জানান,“রাজস্থান, গুজরাট, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি ও মুম্বইয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া বেশ ভাল। এক্সটেন্ডেড উইকেন্ডে ছবিটি সোমবার পর্যন্ত ১৫০ কোটি টাকার বেশি আয় করতে পারে।”
যদিও গালফ অঞ্চলে মুক্তি না পাওয়ায় বিদেশি আয়ে কিছু প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তবুও বিষয়টিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না অনেকে। মিরাজ এন্টারটেনমেন্ট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভুবনেশ মেন্দিরাট্টা বলেন,“গালফ মার্কেট না থাকায় বিদেশি আয়ে আনুমানিক ১০ শতাংশের মতো প্রভাব পড়তে পারে। তবে ছবির শক্তিশালী দেশীয় বক্স অফিসের পারফরম্যান্স সেই ঘাটতি সহজেই পুষিয়ে দেবে।”
সব মিলিয়ে, সানি দেওলের সিক্যুয়েল রাজত্ব যে এখনও অটুট, তা বক্স অফিসের সংখ্যাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
