গত বছর ছবিটি সারা দেশে মুক্তি পেলেও পশ্চিমবঙ্গে তা প্রদর্শিত হতে পারেনি। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৎকালীন সরকারের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার কারণে হল মালিকরা ছবিটি চালাতে ভয় পাচ্ছিলেন। তবে রাজ্যে সরকার বদল হতেই এল বড় খবর। দীর্ঘ বিতর্ক, অভিযোগ আর রাজনৈতিক চাপানউতোরের পর অবশেষে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী-র ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ এবার কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মুখ দেখছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি ঘিরে জটিলতায় আটকে যাওয়ার পর, শুক্রবার থেকে শহরের হলে ছবিটি দেখানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

পরিচালকের দাবি, আগের বার ছবিটির স্ক্রিনিং কার্যত আটকে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর আগের ছবি The Kashmir Files-এর মতোই ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-কেও হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে মমতা ব্যানার্জির-র দিকেও আঙুল তোলেন তিনি, সরাসরি ‘ব্যান’-এর অভিযোগ এনে। সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে অগ্নিহোত্রী তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “আমাদের এই ছবির ট্রেলার লঞ্চ আটকে দেওয়া হয়েছিল, আক্রমণ করা হয়েছিল, এমনকি আমার বিরুদ্ধে ডজন ডজন এফআইআর করা হয়েছিল। আমি বাংলায় ‘ক্যানসেলড’ হয়ে গিয়েছিলাম। রাজ্যপালের হাত থেকে পুরস্কার নিতে পর্যন্ত যেতে পারিনি। কিন্তু আমরা হার মানিনি। নির্বাচনের সময় আমরা নিশ্চিত করেছি যাতে বাংলার মানুষের কাছে কোনোভাবে ছবিটি পৌঁছায়।”


অন্যদিকে, ছবির মুক্তি নিয়ে আশাবাদী প্রেক্ষাগৃহ মালিকরাও। Arijit Dutta, প্রিয়া সিনেমাসের কর্ণধার, জানিয়েছেন—সেন্সর পাশ করা একটি ছবি শুধুমাত্র ‘পার্টির নির্দেশে’ মুক্তি পায়নি, এমন নজির বিরল। এতদিন সেন্সর বোর্ডের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন ছবিটি মুক্তি পায়নি, তা নিয়ে সরব হয়েছেন কলকাতার হল মালিকরা। প্রিয়া সিনেমার কর্ণধার অরিজিৎ দত্ত বলেন, “একটি সেন্সরড ফিল্ম স্রেফ দলীয় নির্দেশের কারণে বাংলায় মুক্তি পায়নি। সারা ভারত যখন ছবিটি দেখছিল, বাংলার একটি সিনেমা হলও এটি প্রদর্শনের সুযোগ পায়নি। দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। আমি খুশি যে অবশেষে বাংলার মানুষ এটি দেখার সুযোগ পাবেন।”

 

 

 

অন্যদিকে, ডিস্ট্রিবিউটার শতদীপ সাহা জানিয়েছেন জানাচ্ছেন, শুধু কলকাতাই নয়, গোটা রাজ্যের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখানোর পরিকল্পনা চলছে।

সব মিলিয়ে, কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর কলকাতায় মুক্তি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা—রাজনীতি, সেন্সরশিপ আর সিনেমার সম্পর্ক নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে জোরালোভাবে।