ভিড় উপচে পড়েছে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়গড়ের বাড়ির নীচে। চোখের জলে 'বাবিন'কে শেষবার বিদায় জানাতে এসেছে প্রতিবেশীরা। বেশ খানিকক্ষণ আগে ফুলে সাজানো শববাহী গাড়িতে করে আনা হয়েছে রাহুলের নিথর দেহ। ‘বাবিন’কে একটিবার দেখার জন্য পাড়ার মানুষের আকুতির কাছে ভেঙে পড়ল ব্যারিকেড। ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এরপরেই সেখান থেকে ভিড় সরিয়ে, কোনওমতে রাহুলের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ির তিনতলায়। তবে বাড়ির উপরে রাহুলের ফ্ল্যাটে কাউকে উঠতেই দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে রাহুলের মা আছেন, প্রিয়াঙ্কা আছেন, তাঁদের সন্তান সহজ আছে। সেখানে কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি অথবা বাইরের কাউকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। 


 রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সন্তান সহজের বয়স মাত্র ১১। তাই তার কথা মাথায় রেখেই পরিবার রাহুলের মৃতদেহ নিয়ে কোনওরকম আড়ম্বর চান না। তাঁদের ছবি প্রকাশ্যে আসুক, চান না প্রিয়ঙ্কা ও পরিবারের বাকিরাও। বাড়ি থেকে, একেবারে আড়ম্বরহীনভাবেই রাহুলের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে শ্মশানে। মাঝখানে কোনও জায়গাতেই -স্টুডিও অথবা প্রেক্ষগৃহের চত্বর, কোথাও শায়িত থাকবে না  রাহুলের দেহ। 
 

বিজয়গড়ের মানুষের কাছে তিনি কোনও বড় তারকা নন, ছিলেন শুধুই পাড়ার ছেলে ‘বাবিন’। তাঁর অমায়িক ব্যবহার আর হাসিমুখের স্মৃতি হাতড়ে এদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন শুধুই প্রিয় অভিনেতাকে হারানোর হাহাকার।

 


রাহুলের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন দাবি ঘুরলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সমুদ্র থেকে উদ্ধার করার পর  অভিনেতাকে দ্রুত দিঘা সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তালসারি থেকে প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার দূরে। এরপর সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১০ নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের  শুটিং চলাকালীন কোনওভাবে সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল। এবং তলিয়ে যান!  তারপর দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর খোঁজ না পাওয়া যাওয়ায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এরপর তাঁর দেহ পাওয়া গেলে ৬টা ২০নাগাদ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।চোখের সামনেই পুরো ঘটনাটা ঘটে রাহুলের ড্রাইভার বাবলুর। রাত পোহালেও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে রাহুলের সারথী তিনি। আজকাল ডট ইন-কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “শুটিংয়ের সময় নায়িকার হাত ধরে জলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিন ছিল। দাদা তাই-ই করছিলেন। হঠাৎই জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে থাকেন। টেকনিশিয়ানরা সবাই ছুটে যায় উদ্ধার করার জন্য। নায়িকাও পড়ে যান। দু’জনকেই উদ্ধার করা হয়। তখনও শরীরে প্রাণ ছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন দাদা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার বলেন রাস্তাতেই নাকি সব শেষ হয়ে গিয়েছে।”

 

 

&t=2069s