হামলা, পাল্টা হামলা, মৃত্যু মিছিলে আতঙ্ক বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। সেখানকার এই পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিশ্বের। সংঘর্ষে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাতের আবহে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক আকাশপথেও। অভিযোগ, ইজরায়েল ও আমেরিকা ইরান-কে ঘিরে যে সামরিক হামলায় জরিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে গোটা অঞ্চলের বিমান চলাচলে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী নুসরত ফারিয়া। নির্ধারিত দুবাইগামী উড়ান বাতিল হওয়ায় তাঁকে আটকে পড়তে হয় ইস্তানবুল বিমানবন্দরে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতেই নিজের ফেসবুক পেজে এই ঘটনা জানিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন অভিনেত্রী। সেই দিনের অভিজ্ঞতাকে তিনি বর্ণনা করেন “দুঃস্বপ্নের মতো” বলে।নুসরত জানান, তাঁর পরিকল্পনা ছিল ইস্তানবুল থেকে দুবাই যাওয়ার। কিন্তু আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায় যখন জানা যায় ইউনাইটেড আরব এমিরেটসএর আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি লেখেন,“ঘুম থেকে উঠে শুনলাম যুদ্ধের পরিস্থিতি, আর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আকাশপথ বন্ধ। মুহূর্তে সব থেমে গেল। আমার ইস্তানবুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল চারপাশের পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। এত অনিশ্চয়তা, এত চাপ, এত ভয়।”

বিশ্ব পরিস্থিতির টানাপোড়েনের সেই চাপ বিমানবন্দরের পরিবেশেও স্পষ্ট ছিল বলে জানান তিনি। তবু বিশৃঙ্খলার মাঝেও বিশ্বাস আর প্রিয়জনদের সমর্থন তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে। ইস্তানবুলে থাকা এক বন্ধুর পরিবারকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। বারবার খোঁজ নেওয়া, পাশে থাকা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সেই মানবিকতায় ভেঙে পড়তে দেননি তাঁকে।

 

 

তিনি লেখেন, “এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও ঈশ্বরের কৃপা আর মানুষের ভালবাসাই আমাকে ধরে রেখেছে। ইস্তানবুলে আমার বন্ধুর পরিবার যেভাবে পাশে থেকেছে, বারবার খোঁজ নিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, তা কখনও ভুলব না। তাদের ভালোবাসা আমাকে আজ ভেঙে পড়তে দেয়নি।”

অপেক্ষার সেই অনিশ্চিত মুহূর্তকে ধরে রাখতে বিমানবন্দর থেকেই একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

 

 

পরে নুসরত জানান, তিনি এখন ঢাকার পথে। মন ভারী হলেও কৃতজ্ঞতায় ভরা তাঁর অনুভূতি। তাই তো পোস্ট শেষে তাঁর একটাই প্রার্থনা,  “এখন প্লেনে বসে ঢাকায় ফিরছি। মনটা ভারী, কিন্তু কৃতজ্ঞ। শুধু চাই ,পৃথিবীটা যেন একটু শান্ত হোক।”

 

&t=313s