কলকাতার বেহালা অঞ্চলের অন্যতম পুরোনো এবং জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ অশোকা। গত শতাব্দীর ছয়ের মধ্যভাগে পথচলা শুরু এই প্রেক্ষাগৃহের। তবে হাঁকডাক শুরু হয় সাতের দশকে পা রাখতেই। তখন থেকে এই প্রেক্ষাগৃহের মালিকানা আসে রায় পরিবারে। প্রদীপ রায় ছিলেন সেই সময় এই প্রেক্ষাগৃহের কর্ণধার। এখন সেই আসনে বসেন তাঁর ছেলে প্রবীর রায়। অশোকা-য় হিন্দি ছবির পাশাপাশি বাংলা ছবিও রমরমিয়ে চলে। বরাবর-ই। তবে বিগত মাস চারেক ধরে কোনও বড় বাজেটের, তারকাখচিত বাংলা ছবি পাচ্ছে না অশোকা, অভিযোগ অশোকা-র কর্ণধারের। তাঁর দাবি, গত তিন মাসে মাত্র হাতে গোনা দু’একটি বাংলা ছবি পেয়েছে অশোকা। তবুও তা কেবলমাত্র একটি ফিল্ম পরিবেশক অর্থাৎ ডিস্ট্রিবিউটরের তরফে।   


আজকাল ডট ইন-কে অশোকা-র কর্ণধার প্রবীর রায় বললেন, “বিগত প্রায় মাস চারেক ধরে কোনও বড় বাজেটের, তারকাখচিত বাংলা ছবি আমরা পাচ্ছি না দর্শককে দেখানোর জন্য! বাংলার বড় বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি এই বিষয়ে তবু এখনও পর্যন্ত এই সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। বারবার জিজ্ঞেস করেছি কেন বাংলা ছবি পাচ্ছে না অশোকা? তবু কোনও সদুত্তর পাইনি! ভাবতে পারেন, এপ্রিল মাসে বাংলা ছবি দুগাপুর জংশন কোনওরকমে আমরা পেয়েছিলাম....তারপর আর কিছু নেই।" দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রবীরবাবু আরও বলেন, " জানেন, 'পাঠান' মুক্তি পাওয়ার আগে যশ রাজ ফিল্মসের তরফে শর্ত ছিল তাঁদের এই ছবি নিলে আর অন্য কোনও ছবি আমরা স্ক্রিনে চালাতে পারব না! অথচ সেই সময় আমার প্রেক্ষাগৃহে প্রজাপতি চলছে। ফিরিয়ে দিয়েছিলাম পাঠান! মোটা টাকা লাভ হত আমার, তবু পরোয়া করিনি। কারণ ব্যবসা করার পাশাপাশি বাংলা ছবি ভালবাসি আমি। আমার একটাই প্রশ্ন, কী এমন হল যে অশোকা কোনও বাংলা ছবি পাচ্ছে না?”

 

‘এ এ ফিল্মস’-এর কর্ণধার রাজকুমার দামানি বাংলার প্রথম সারির ফিল্ম পরিবেশকদের মধ্যে অন্যতম। ‘পুষ্পা ২’-র পাশাপাশি ‘রক্তবীজ’, ‘বহুরূপী’-র মতো ছবির পরিবেশক এই সংস্থা। এই প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইন-কে রাখঢাক না রেখেই রাজকুমার দামানি বললেন, “দেখুন, অশোকা প্রেক্ষাগৃহের বাংলা ছবির শো-টাইমিং নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে আমাদের। ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়েও কিছু সমস্যা আছে। সেসব মিটলেই আমাদের তরফে বাংলা ছবি যাবে সেই প্রেক্ষাগৃহে। 'অশোকা' তো আমার শত্রু নয়। দেখুন, আমি তো ব্যবসা করতে এসেছি। শত্রুতা করতে তো আসিনি। আর ব্যবসায় দু’পক্ষের পোষাবে এমন সমাধান কাম্য। এক্ষেত্রেও তাই। সেই সমাধানের সূত্র পেলেই আমাদের সংস্থার তরফে অশোকা-র কাছে ফের বাংলা ছবি যাবে। যাবেই! আমি জোর গলায় বলছি। আর আমি তো ওঁদের হিন্দি ছবি দিচ্ছি। সেখানে তো কোনও সমস্যা নেই।”

 

রাজকুমার দামানির কথার পাল্টা বক্তব্যে অশোকা-র কর্ণধার বললেন, “বাবলুদা-র (রাজকুমার দামানি) তরফে এই কথা প্রথমবার শুনলাম আমি। আমাকে তো উনি কোনওদিনও একথা সরাসরি বলেননি। ঠিক আছে, উনি যখন দাবি করছেন, আমার প্রেক্ষাগৃহে বাংলা ছবির শো-টাইমিং নিয়ে ওঁর সমস্যা তখন আমি হাতেগরম প্রমাণ দেখিয়ে দিচ্ছি শেষ পাঁচ বছরে অশোকা-তে কোন সময়ে সব বাংলা ছবি চলেছে! একটা কথা আপনাকে বলি, বাংলা ছবি সবসময় প্রাইম টাইমে চলে। অর্থাৎ বিকেলের শো-তে। ওই শো টাইম ছাড়া চলে না। তাই বিকেল চারটে থেকে সাড়ে  ছ'টার মধ্যে অশোকা-তে সবসময় বাংলা ছবি চলে! বিশেষ পরিস্থিতিতে কখনও-সখনও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চলেছে। ব্যাস! ফিল্ম পরিবেশকদের মধ্যে একমাত্র এসএস আর সংস্থা আমাকে বাংলা ছবি সরবরাহ করেছে।”

 

এসএসআর সংস্থার কর্ণধার শতদীপ সাহা অল্প কথায় আজকাল ডট ইন-কে এই প্রসঙ্গে বললেন, “দেখুন, বাকি ফিল্ম পরিবেশকরা কী করছেন, কেন করছেন সেই বিষয়ে আমি মন্তব্য করব না। আমাদের সংস্থার সব ছবি-ই অশোকা-কে দেওয়ায় হচ্ছে-বাংলা, হিন্দি দু’ক্ষেত্রেই এই কথাটা প্রযোজ্য। এই তো ‘দুর্গাপুর জংশন’-ই তো দিলাম ‘অশোকা’-কে। সেটা তো চলল...”