কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে ভারতীয় সঙ্গীতজগতে স্মরণীয় হতে থাকবেন প্রজন্মকাল। সম্প্রতি তাঁর ছোটবেলার কথা সর্বভারতীয়  সংবাদমাধ্যমকে জানালেন বোন ঊষা মঙ্গেশকর৷ 

ঊষা মঙ্গেশকরের সঙ্গে যখন প্রথম আশা ভোসলের দেখা হল তখন তিনি এক সন্তানের মা৷ “ওই প্রথম বিয়ের পর আশাকে দেখেছিলাম। তখন ও হেমন্তের মা হয়েছে। ও যখন বাড়ি ছেড়েছিল, তখন ওর বয়স ছিল প্রায় ১৪-১৫ বছর। এত বছর পর সেই প্রথম ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়।” ঊষা জানিয়েছেন, মাত্র ১৬ বছর বয়সে আশা বাড়ি থেকে পালিয়ে ২০ বছরের বড় গণপতরাও ভোসলেকে বিয়ে করেছিলেন। এই ঘটনার জন্য দীর্ঘদিন বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না৷ 

উষা আরও জানান, “তার আগে পর্যন্ত আমার মনে ছিল ছোট্ট একটা টমবয় মেয়ে। প্যান্ট, শার্ট, ওয়েস্টকোট পরে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়াত, মারামারি করত। আমি ভাবতাম, এখনও হয়তো ঠিক সেরকমই থাকবে।হাসিখুশি, সবাইকে খেপাবে, মজা করবে। কিন্তু যখন ওকে দেখলাম, আমি শুধু তাকিয়েই রইলাম। কপালে বড় টিপ, চুল খোঁপা করে বাঁধা, পরনে সাদা সাধারণ শাড়ি, হাতে সোনার চুড়ি আর কব্জিতে ঘড়ি। ও সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল।”

উষা জানান, দেখা হওয়ার পরেই আশা তাঁর এলোমেলো চুল দেখে বকুনি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ও জিজ্ঞেস করল, ‘তোর চুলের এই অবস্থা কেন? হেয়ারপিন নেই?’ আমি কিছু বলিনি, শুধু ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তখন ও নিজের কাছ থেকে একটা হেয়ারপিন দিয়ে বলল, ‘এটা লাগা। ঠিক করে চুল বেঁধে এসো।’


তিনি আরও জানান, বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করার পর আশার সঙ্গে পরিবারের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে ছেলে হেমন্তের জন্মের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। উষা বলেন, "ওর ছেলে হওয়ায় মা খুব খুশি হয়েছিলেন, কারণ হেমন্ত ছিল মায়ের প্রথম নাতি। কয়েকদিন পর আশা মাকে ফোন করে বলেছিল, ‘আমি অসুস্থ, তুমি এসো।’ তারপর আমি মায়ের সঙ্গে ওর কাছে যাই। সেই থেকেই আবার দুই পরিবারের যাতায়াত শুরু হয়।”
আশার বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে তিনি এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। ২০০৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আশা নিজেই বলেছিলেন, “লতা দিদি দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি এই বিয়ে সমর্থন করেননি।”