পুরীর তিন রথ কেন পবিত্র? কীভাবে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার রথ নির্মাণ হয়?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৪ জুলাই ২০২৬ ১৩ : ৪৪
শেয়ার করুন
1
17
রথযাত্রা হিন্দুধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় উৎসব। এই উৎসবে ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা তাঁদের নিজ নিজ বিশাল কাঠের রথে আরোহণ করে শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে গমন করেন।
2
17
প্রতিবছর নতুন করে নির্মিত হয় এই তিনটি রথ। নন্দিঘোষ, তালধ্বজ এবং দর্পদলন (দেবদলন)। প্রতিটি রথই দক্ষ কারিগরদের হাতে সম্পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি হয়; নির্মাণে কোনও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় না।
3
17
প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শোভাযাত্রায় হাজার হাজার ভক্ত একসঙ্গে রশি টেনে রথ এগিয়ে নিয়ে যান। সুসজ্জিত, বর্ণিল এই রথগুলি শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক নয়, বরং ভারতীয় ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও কারুশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন।
4
17
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকেই শুরু হয় রথ নির্মাণের শুভ কাজ। কাঠমিস্ত্রি, কামার, দর্জি, চিত্রশিল্পীসহ অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী কারিগর দিনের পর দিন পরিশ্রম করে এই তিনটি রথ নির্মাণ করেন।
5
17
প্রতিটি রথের রং, উচ্চতা, চাকার সংখ্যা, অলঙ্করণ ও কাঠের খোদাই আলাদা, যা সংশ্লিষ্ট দেবতার স্বভাব ও মহিমাকে প্রকাশ করে। প্রতিটি রথের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে৷
6
17
নন্দিঘোষ রথ, যা গরুড়ধ্বজ ও কপিধ্বজ নামেও পরিচিত, তিনটি রথের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে উঁচু। এটি ভগবান জগন্নাথের সর্বজনীন করুণা ও বিশ্বনিয়ন্তার রূপকে প্রকাশ করে।
7
17
এই রথের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট এবং এতে রয়েছে ১৬টি চাকা। রথের প্রধান রং লাল ও হলুদ। এর সারথি দারুক, পতাকার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী, রক্ষাকর্তা দেবতা গরুড় এবং চারটি ঘোড়ার রং সাদা।
8
17
নন্দিঘোষ নির্মাণে প্রায় ৮৩২টি পবিত্র কাঠের অংশ ব্যবহার করা হয়। রথজুড়ে সিংহ, ময়ূর ও সূর্যদেবের প্রতীকী অলঙ্করণ দেখা যায়। রথের অন্যতম প্রধান প্রতীক হল সুদর্শন চক্র।
9
17
নন্দিঘোষের রথের দড়ির নাম শঙ্খচূড়। বিশ্বাস করা হয়, রথযাত্রার সময় এই রশি টানার সৌভাগ্য অর্জন করা একজন ভক্তের জন্য অত্যন্ত পুণ্যময় কাজ।
10
17
তালধ্বজ হল ভগবান বলভদ্রের রথ। এর নকশায় বলভদ্রের স্থির, শক্তিশালী ও সংযত ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন দেখা যায়।
11
17
এই রথের উচ্চতা প্রায় ৪৪ ফুট এবং এতে রয়েছে ১৪টি চাকা। এর প্রধান রং লাল ও সবুজ। সারথি মাতলি, পতাকার নাম উন্নানী, রক্ষাকর্তা দেবতা হনুমান এবং চারটি ঘোড়ার রং কালো।
12
17
তালধ্বজ রথ নির্মাণে ব্যবহৃত হয় প্রায় ৭৩১টি কাঠের অংশ। রথের কাঠের গায়ে সাপ ও বীরযোদ্ধার বিভিন্ন খোদাই করা থাকে, যা ভগবান বলভদ্রের রক্ষাকর্তারূপকে তুলে ধরে।
13
17
তালধ্বজ রথের রশির নাম বাসুকি। এটি দেবনাগ বাসুকির নামানুসারে রাখা হয়েছে এবং ভগবান বলভদ্রের শেষনাগের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
14
17
দেবী সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন বা দেবদলন। তিনটি রথের মধ্যে এটিই আকারে সবচেয়ে ছোট।
রথটির উচ্চতা প্রায় ৪৩ ফুট এবং এতে রয়েছে ১২টি চাকা।
15
17
এর প্রধান রং লাল ও কালো। সারথি অর্জুন, পতাকার নাম নদীশ্বর, রক্ষাকর্ত্রী দেবী কাত্যায়নী (দুর্গা) এবং চারটি ঘোড়ার রং লাল।
16
17
দর্পদলন রথ নির্মাণে ব্যবহৃত হয় প্রায় ৭১১টি কাঠের অংশ। রথটি পদ্মফুলের নকশায় সজ্জিত, যা মাতৃত্ব, স্নেহ, ভালোবাসা ও ভক্তদের প্রতি দেবী সুভদ্রার মমতার প্রতীক। অন্যান্য দুই রথের তুলনায় এর কাঠের খোদাই অনেক বেশি কোমল ও নান্দনিক।
17
17
দর্পদলন রথের রশির নাম স্বর্ণনাভ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রথ একবারও টানতে পারলে দেবী সুভদ্রার বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।