ভারতের অন্যতম কৃতি সঙ্গীতশিল্পী তিনি। বলা হয় তাঁর কণ্ঠে সাক্ষাৎ দেবী সরস্বতীর বাস। এমন ট্যালেন্ট কোটিতে একটা হয়। তাঁর হাত ধরেই ২০০৯ সালে দীর্ঘ সময়ের খরা কাটিয়ে অস্কার আসে। আজ সেই গায়ক এ আর রহমানের জন্মদিন। ৫৯ বছরে পা দিলেন। বার্থডে বয়ের বিষয়ে কিছু কম জানা তথ্য রইল। 

১৯৫৭ সালের ৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন দিলীপ কুমার রাজাগোপাল। যদিও পরবর্তী সময়ে ধর্ম বদলান। বদলান নাম। খ্যাতি পান সেই বদলানো নাম এ আর রহমানের হাত ধরেই। বর্তমানে রহমানের ঝুলিতে অস্কার ছাড়াও রয়েছে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। তবে তাঁর সাফল্যের এই পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। চেন্নাইয়ের একটা সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। মাত্র ৯ বছর বয়সে হারান বাবাকে। তাঁর বাবা আরকে শেখর ছিলেন মালায়লি মিউজিক কন্ডাকটর। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বাদ্যযন্ত্র ভাড়া দিয়ে সেখান দিয়ে সংসার চালাতে থাকেন রহমানের মা করিমা বেগম। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বর্তমানে তিনি ভারতের সবথেকে ধনী গায়ক। 

মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে কাজ করা শুরু করেন সংসার চালানোর তাগিদে। প্রথমে রেকর্ড প্লেয়ার চালানোর কাজ করতেন। সেই বাবদ তাঁর প্রথম মাইনে ছিল ৫০ টাকা। রহমানের স্টুডিও বানাতে গিয়ে নিজের সমস্ত গয়না বেচে দেন গায়কের মা। সেই টাকায় অ্যাম্পলিফায়ার এবং ইকুইলাইজার কেনেন। এরপর বাবার রেখে যাওয়া সিনথেসাইজার এবং কিবোর্ড বাজিয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে দেন পুরোদমে সঙ্গীতে মন দেবেন বলে। এরপরই মণি রত্নমের 'রোজা' ছবিতে কাজ করেছেন। ১৯৯২ সালে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তাঁকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৯ সালে 'স্লামডগ মিলেনিয়ার' ছবির 'জয় হো' গানের কারণে পান অস্কার।

বর্তমানে এ আর রহমান ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা নেন ছবি প্রতি কাজ করার জন্য। আর এক একটি গান গাইতে তাঁর পারিশ্রমিক ৩ কোটি টাকা প্রায়। এছাড়া শো, গানের রয়্যালটি, ইত্যদি তো আছেই। একাধিক রেকর্ডিং স্টুডিও রয়েছে তাঁর। লস অ্যাঞ্জেলেসে রয়েছে বাড়ি। চেন্নাইয়ে রয়েছে পেল্লাই সাইজের বাংলো। একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি যেমন মার্সিডিজ বেঞ্জ এস ক্লাস, জাগুয়ার এক্সজেএল, ইত্যাদি। প্রায় ১৭২৮ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক তিনি।