টলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বলপূর্বক শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ করেছেন৷ সোমবার বিকালে এই বিষয় সংবাদিক বৈঠক করেন অভিনেত্রী৷
আইনি পথে পদক্ষেপ করছেন অভিনেত্রী৷ অঙ্কিতা জানান, দেবালয় একটি পার্টিতে প্রকাশ্যে হেনস্থা করেন। তিনি আশা করেছিলেন দেবালয় ভট্টাচার্য ক্ষমা চাইবেন তা হয়নি৷ তাই তিনি আইনি পদক্ষেপ করছেন৷
দেবালয় ভট্টাচার্য বলপূর্বক চুম্বন করেছেন, এমনটাই অভিযোগ অঙ্কিতার৷ অন্যদিকে দেবালয় ভট্টাচার্য ফেসবুকে পোস্ট করেও তা মুছে দিয়েছেন৷ দেবালয় ভট্টাচার্যের অভিযোগ 'ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ' করা হয়েছে৷ অভিনেত্রী অঙ্কিতা এই অভিযোগ শুনে হাসেন এবং বলেন 'সাংবাদিকদের দেবালয়কে প্রশ্ন করা উচিত, কিসের পার্সোনাল গ্রাজ'।
অঙ্কিতা বলেন, আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এই সমস্যাগুলো হয় কারণ প্রত্যেকের তো পারিবারিক আর্থিক ক্ষমতা এক নয়৷ আমি একটা কথা বললাম, তুমি আমার পাশে দাঁড়ালে, তোমাকে তিনটে ছবির অফার দিয়ে দেওয়া হল৷ আমি কাউকে জাজ করছি না৷ কারও নামে কিছু বলছি না। কিন্তু যেটা করতে পারি একটা সেফ প্লেস তৈরি করার চেষ্টা করছি৷ কিছু নিয়ম থাকবে৷ তাতেও যে সবটা আটকানো যাবে তা নয়, কিছুটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে৷
অঙ্কিতার সমর্থনে ছিলেন অভিনেত্রী বেণী বসু৷ তিনি বলেন আরও অনেকে ভুক্তভোগী। যতদিন না তাঁরা মুখ খুলবেন এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না৷ এই কথার সূত্রে অভিনেত্রী সঙ্ঘশ্রী বলেন, যিনি অপরাধ করেছেন তাঁকে প্রশ্ন না করে সবসময় কেন যাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়?
পোস্ট ডিলিট করা প্রসঙ্গেও অঙ্কিতা প্রশ্ন তোলেন যে, এক বাংলা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন দেবালয় যে পোস্ট ডিলিট না করলে তিনি বিপদে পড়বেন। কিসের বিপদ, উনি যদি কিছু নাই করে থাকেন তাহলে কেন ডিলিট করলেন? এমন তো কত কিছুই ফেসবুকে লেখা হয়, ডিলিট করার প্রয়োজন পড়ে কি?"
অঙ্কিতার আইনজীবী প্রিয়ম দে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন দেবালয় ভট্টাচার্যকে৷ সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে নইলে এফ আই আর করবেন অঙ্কিতা৷
অঙ্কিতার আইনজীবী তরফে বলা হয়েছে এই হেনস্থার আতঙ্ক নিয়ে অভিনেত্রী তিন বছর কাটিয়েছেন৷
"মাধ্যমিক দেওয়ার পর বাবা হাত ধরে থিয়েটার করতে নিয়ে গিয়েছিল৷ ১৯ বছর বয়স থেকে কাজ করছি৷ এর আগে কখনও আমার এমন যৌন হেনস্থার অভিজ্ঞতা হয়নি৷" অঙ্কিতার সংযোজন।
সমস্যার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে৷ সমাজমাধ্যমে দেবালয় ভট্টাচার্যের একটি পোস্টে অঙ্কিতা লিখেছিলেন, " তোমার মতো নোংরা পারভার্ট ব্রাহ্মণদের কী করে শ্রদ্ধা করি বলো তো? যারা নিজের বন্ধুর মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে ছাড়ে না।" শিশু হেনস্থার কথাও বলেছিলেন অঙ্কিতা। এরপর দেবালয় পোস্টটি মুছে দেন৷














