গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের আড়ালে যে কত দ্রুত বিতর্কের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসতে পারে, তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হল পাড্ডা পরিবার। বলিউডের পরিচিত মুখ অনিত পাড্ডা এখন নেটনাগরিকদের তীব্র রোষের মুখে। তবে এই বিতর্কের সূত্রপাত অনিতের নিজের কোনও কাজ নয়, বরং তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ফলো লিস্ট’ এবং বিতর্কিত তুর্কি-আমেরিকান রাজনৈতিক ভাষ্যকার হাসান পিকারের প্রতি তাঁর সমর্থনকে কেন্দ্র করে।


ঘটনার সূত্রপাত হয় অনিতের দিদি রীত পাড্ডার একটি বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নেটিজেনরা লক্ষ্য করেন যে, অনিত পাড্ডা ইনস্টাগ্রামে হাসান পিকারকে অনুসরণ করছেন। এই হাসান পিকার ভারতীয় নেটিজেনদের কাছে অত্যন্ত অপছন্দের এক নাম। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন হাসান পিকার ভারতকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতের অখণ্ডতা ও সেনাবাহিনীর অসম্মান করার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে অনিত কেন ফলো করছেন, তা নিয়েই এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।

এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে বহু নেটিজেন অনিতকে 'দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে আক্রমণ করেছেন। একজন লিখেছেন, 'যখন আপনার দিদি দেশের সংস্কৃতি নিয়ে উপহাস করছেন, তখন আপনি এমন একজনকে সমর্থন করছেন যে আমাদের দেশকে সন্ত্রাসবাদী বলে। এটা কি কেবল কাকতালীয়, নাকি এটাই আপনাদের পরিবারের মানসিকতা?'


অনেকে আবার তাঁর আসন্ন কাজগুলি বয়কটের ডাক দিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, তারকাদের উচিত কাকে তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসরণ করছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকা, কারণ তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে এই তীব্র সমালোচনার মুখে অনীত বা তাঁর পরিবার এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেননি।

প্রসঙ্গত, রীত পাড্ডা রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’ ছবিটিকে সরাসরি ‘প্রপাগান্ডা’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ বা ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র মতো এই ছবিটিও একটি বিশেষ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছে। রীতের অভিযোগ, এই সিনেমাগুলোতে সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নোটবন্দির মতো বিষয়কে যেভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, তাকে তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। ফলে নেটিজেনদের রোষের মুখে তিনিও পড়েছেন।