২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গদর’ ছবির বিপুল সাফল্যের ঠিক এক বছর পরেই মুক্তি পেয়েছিল আব্বাস-মস্তানের জনপ্রিয় থ্রিলার ‘হামরাজ’। জয়পুর ফোর্টে যখন এই ছবির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের শুটিং চলছিল, তখন আমিশাকে জড়িয়ে ধরার কথা ছিল ববি দেওলের। কিন্তু পরিচালক ‘অ্যাকশন’ বলতেই ঘটে এক অভাবনীয় কাণ্ড! শুটিং দেখতে ভিড় করা সাধারণ মানুষ ববিকে দেখেই চিৎকার শুরু করে দেন।
সেই মজার অভিজ্ঞতা মনে করে আমিশা বলেন, “জয়পুর ফোর্টে ববির সঙ্গে হামরজ-এর শুটিং করার সময় ক্লাইম্যাক্স শটে ওঁর আমাকে জড়িয়ে ধরার কথা ছিল। অ্যাকশন বলতেই সেখানে জমা হওয়া ভিড় জোর-জোড়ে চেঁচাতে শুরু করল, ‘ছেড়ে দে! আরে ও তো তোর ভাইয়ের (সানি দেওল) আমানত! তারা সিং ওকে পাকিস্তান থেকে নিয়ে এসেছে, ওকে একদম ছুঁবি না তুই!’ শুনে আমরা তো অবাক! সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম যে ভাই, এটা সিনেমার শুটিং! শেষে ভিড় সরিয়ে, মানুষের আবেগে আঘাত না দিয়েই আমরা শটটা শেষ করি। তবে দেওল পরিবারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময়ই দারুণ, ওঁরা খুব ভাল মানুষ।”
আসলে ‘গদর’ ছবিতে সানি দেওলের ‘তারা সিং’ আর আমিশার ‘সাকিনা’ জুটিকে মানুষ এতটাই বাস্তব ভেবে নিয়েছিলেন যে, সানির নিজের ভাই ববি দেওল যখন অন্য ছবিতে আমিশাকে স্পর্শ করতে যান, তা দর্শকের সহ্য হয়নি! ববিকে তারা সিংয়ের ভাই হিসেবেই সেখানে ট্রিট করা হয়েছিল। আজকের ওটিটি এবং মাল্টিভার্সের যুগে দাঁড়িয়ে এই ঘটনাটি শুনতে যেমন মজার, ঠিক তেমনই সমকালীন দর্শকের কাছে এক দারুণ নস্টালজিয়া। রিল আর রিয়েলের এই গুলিয়ে ফেলাটাই প্রমাণ করে সে যুগের সিনেমার স্টারডম ঠিক কোন পর্যায়ে ছিল। ২৪ বছর পার হয়ে গেলেও ‘হামরাজ’ ছবিটির থ্রিলিং স্টোরিলাইন এবং ‘বরদাশত নেহি কর সাকতা’ বা ‘আঁখে বন্ধ করকে’-র মতো চার্টবাস্টার গানগুলো আজও মানুষের মনে টাটকা।
পরবর্তীকালে ‘গদর ২’ ছবির হাত ধরে সানি ও আমিশা জুটি আবার পর্দায় ফিরেছিল এবং বক্স অফিসে সুনামি এনেছিল। তবে ‘হামরজ’-এর সেটের এই সিক্রেট সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হওয়ার পর হেসে কুটিপাটি অনুরাগীরা।















