আধুনিক হলিউড সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম এবং বহুল চর্চিত জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে। ‘নো টাইম টু ডাই’ ছবিতে জেমস বন্ড হিসেবে ড্যানিয়েল ক্রেগের বিদায়ের পর দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে— পরবর্তী জেমস বন্ড-এর সন্ধান বা কাস্টিং প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। রুপোলি পর্দার ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং আইকনিক এমআইসিক্স সুপারস্পাই-এর এক নতুন যুগের সূচনা করতে বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয়েছে ‘বন্ড ২৬’-এর মেগা অডিশন।

এই হাই-প্রোফাইল মিশনটিকে সফল করতে স্টুডিওর পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হলিউডের কিংবদন্তি কাস্টিং ডিরেক্টর নিনা গোল্ড-কে। ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘দ্য ক্রাউন’ এবং ‘স্টার ওয়ার্স’ সিক্যুয়েল ট্রিলজির মতো ব্লকবাস্টার প্রজেক্টের কাস্টিংয়ের নেপথ্যে থাকা নিনা গোল্ডের কাঁধেই এখন দায়িত্ব এমন একজন অভিনেতাকে খুঁজে বের করা, যিনি বন্ডের সহজাত ‘আভিজাত্য এবং বিপদ’— দুইয়েরই নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন।

তা বন্ড হওয়ার রেসে এগিয়ে কারা? অফিশিয়াল কাস্টিং তালিকাটি চূড়ান্ত গোপন রাখা হলেও, হলিউড ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে বন্ড হওয়ার রেসে মূলত চারজন অভিনেতা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন -

অ্যারন টেইলর-জনসন: ‘বুলেট ট্রেন’, ‘কিক-অ্যাস’ এবং ক্রেভেন-দ্য হান্টার এর মতো সব ছবি খ্যাত এই ব্রিটিশ তারকা অনেকদিন ধরেই বন্ড হওয়ার দৌড়ে সবার প্রথমে রয়েছেন। ওঁর দুর্দান্ত শারীরিক গঠন এবং খাঁটি ব্রিটিশ চার্ম বন্ডের চরিত্রের জন্য একদম উপযুক্ত।

ক্যালাম টার্নার : গত এক বছরে নিজের অভিনয়ের জাদুতে হলিউডে সাড়া ফেলা এই তরুণ ব্রিটিশ তারকা তাঁর দীর্ঘকায় চেহারা এবং পর্দায় জমাটি স্ক্রিন প্রেজেন্সের কারণে নিনা গোল্ডের কাস্টিং বোর্ডে বেশ ওপরের দিকেই আছেন।

জ্যাকব এলর্ডি : এই রেসের সবচেয়ে বড় ‘ডার্ক হর্স’ হলেন অস্ট্রেলিয়ান হার্টথ্রব জ্যাকব এলর্ডি। ঐতিহাসিকভাবে বন্ডের চরিত্রে ব্রিটিশ অভিনেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, এলর্ডির গভীর ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে স্টুডিও ডিজিটাল-ফার্স্ট দর্শক টানতে চাইছে।

এবারের জেমস বন্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি রিবুটটি আগের সমস্ত পর্বের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হতে চলেছে, কারণ ক্যামেরার পেছনের ‘বন্ড ২৬’-এর  টিমটিকে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করে ফেলেছে স্টুডিও।

 

 

‘ডুন’  এবং ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’-এর মতো ভিজ্যুয়াল মাস্টারপিসের দূরদর্শী পরিচালক ডেনিস ভিলনোভ  এবার পরিচালনা করতে চলেছেন ‘বন্ড ২৬’। ফলে বন্ডের সিনেমা যে এবার এক অন্য ধারার ভিজ্যুয়াল আর্কিটেকচার এবং গ্রিটি ঘরানায় হাজির হবে, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, ছবির চিত্রনাট্য লিখছেন কাল্ট সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ -এর স্রষ্টা স্টিভেন নাইট । ডেভিড হেইম্যান এবং অ্যামি প্যাসকালের মতো হেভিওয়েট প্রযোজকদের ব্যাকআপ থাকায় ডেনিস ভিলনোভের সেই বিশেষ সৃজনশীল ভাবনার সাথে মিল রেখেই নতুন বন্ডকে বাছা হবে।


নিনা গোল্ড যখন অডিশন পর্ব শুরু করেছেন, তখন অনুরাগীদের মনে একটাই প্রশ্ন— বন্ড ফ্র্যাঞ্চাইজি কি এবার নিজেদের চেনা ঐতিহ্যের খোলনলচে বদলে ফেলবে? দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের পছন্দের তালিকায় থাকা ইদ্রিস অ্যালবা বা হেনরি কেভিলের মতো অভিনেতারা বয়সের কারণে এই মাল্টি-ফিল্ম প্রজেক্টের চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন। চিত্রনাট্য প্রস্তুত, পরিচালকও তৈরি, এখন কেবল অপেক্ষা নতুন বন্ডের নামের ওপর থেকে অফিশিয়াল পর্দা ওঠার। বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ‘অ্যাস্টন মার্টিন’ গাড়ির স্টিয়ারিং এবার কার হাতে ওঠে, তা দেখতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।