বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খানের সঙ্গে পাপারাৎজিদের সম্পর্ক সবসময়ই বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে প্যাপসদের সঙ্গে রসিকতা করা বা হাসিমুখে পোজ দেওয়া সলমনের চেনা স্বভাব। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে মুম্বইয়ের এক হাসপাতালের বাইরে ঘটল এক নজিরবিহীন ঘটনা। এক পরিজনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে চিত্রসাংবাদিকদের অতি-উৎসুক আচরণে এতটাই ক্ষিপ্ত হলেন অভিনেতা যে, মাঝরাতেই একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে। সলমনের এই রাগের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আলিয়া ভাট, করণ জোহর, বরুণ ধাওয়ান এবং তাবুর মতো বলিউডের প্রথম সারির তারকারা।
ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে? মঙ্গলবার রাতে মুম্বইয়ের বান্দ্রার হিন্দুজা হাসপাতালের বাইরে আত্মীয়কে দেখতে যান সলমন। তিনি যখন হাসপাতাল থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখন ওঁর ছবি ও ভিডিও তোলার জন্য পাপারাৎজিরা ওঁর ওপর কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েন। কারও কোনও পারিবারিক ক্ষতি বা শোকের মুহূর্তে মিডিয়ার এই অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও ক্যামেরার ঝলকানি সহ্য করতে পারেননি সলমন। ভিডিওতে দেখা যায়, সলমন অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে প্যাপসদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে রেগে বলেন— “ মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?”। এর পরেই তিনি গাড়িতে উঠে চলে যান। যদিও পরে চিত্রসাংবাদিকরা ওঁর কাছে ক্ষমা চান, কিন্তু সলমনের রাগ তাতে কমেনি।
হাসপাতাল থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরেই মাঝরাতে নিজের ইনস্টাগ্রামে পরপর হাসিমুখে কয়েকটি সেলফি পোস্ট করেন সলমন। কিন্তু সেই হাসির পেছনে লুকিয়ে ছিল চরম ক্ষোভ, যা ফুটে ওঠে ওঁর ক্যাপশনগুলোতে। ওঁর আগামী ছবি ‘মাতৃভূমি’ -কে এই বিতর্কে টেনে আনার বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি।
সলমন ওঁর পোস্টে লেখেন, “কোনও সংবাদমাধ্যম যদি হাসপাতালে আমার কষ্ট উপভোগ করতে আসে... যে সংবাদমাধ্যমের পাশে আমি সবসময় দাঁড়িয়েছি, যাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছি, যাদের রুটি-রুজির খেয়াল রেখেছি, তারা যদি আমার ক্ষতি বা শোকের থেকে টাকা কামাতে চায়… চুপ থাকো, এটা উপভোগ করো না। ভাই ভাই ভাই, ‘মাতৃভূমি’ ছবির মা-কী-আঁখ, ছবি গুরুত্বপূর্ণ নাকি জীবন?”

অন্য একটি পোস্টে সলমন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, “এমন আমি একশোটা পুড়িয়ে দেব। ভাইয়ের মতো এক ভাইয়ের দুঃখে পরের বার আমার সঙ্গে এটা চেষ্টাকরে দেখো। শুধু একবার ট্রাই করে দেখো... যখন তোমাদের কেউ হাসপাতালে থাকবে, আমি কি এভাবে রিঅ্যাক্ট করব?”

সবচেয়ে ক্ষুরধার ছিল ওঁর শেষ পোস্টটি। ৬০ বছর বয়সী অভিনেতা মনে করিয়ে দেন, “ষাট বছর (গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ৬০ বছরে পা দিয়েছেন) বয়স হয়ে গিয়েছে আমার, কিন্তু লড়াই করা ভুলে যাইনি, এটা মনে রেখো। জেলে পুরবে? হা হা হা!”
কারও ব্যক্তিগত শোক বা অসুস্থতার সময়ে মিডিয়ার এই সংবেদনহীনতার বিরুদ্ধে সলমন মুখ খুলতেই ওঁর সমর্থনে এগিয়ে আসে গোটা বলিপাড়া।করণ জোহর, তাবু এবং বরুণ ধাওয়ান সলমনের সেই পোস্টে লাইক দিয়ে সমর্থন জানান, যেখানে তিনি মিডিয়াকে ওঁর কষ্ট নিয়ে ব্যবসা না করার কথা বলেছেন।আলিয়া ভাট এবং বরুণ ধাওয়ান লাইক করেন ওঁর ছবির চেয়ে জীবনকে গুরুত্ব দেওয়ার পোস্টটিতে।
এছাড়াও বরুণ ধাওয়ান সলমনের ক্ষুব্ধ হুঁশিয়ারি এবং “জেলে পুরবে?” লেখা পোস্টগুলোতেও লাইক দিয়ে অভিনেতার ক্ষোভের সঙ্গেএকাত্মতা প্রকাশ করেন।
শুধু এই প্রথম সারির তারকারাই নন, কৃষ্ণা অভিষেক এবং রাখি সাওয়ান্তের মতো টেলিভিশন ব্যক্তিত্বরাও সলমন খানের এই প্রতিবাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনাটি আরও একবার তারকাদের ‘ব্যক্তিগত জীবন’ ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মধ্যকার সীমারেখা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।















