অঙ্কিত বাগচীর প্রযোজনা এবং শৌভিক পণ্ডিতের পরিচালনায় রাজবংশী ভাষার স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র 'ডাউকি'। উত্তরবঙ্গের এক প্রাচীন জনগোষ্ঠীর লোককথা, লোকগান, উৎসব, ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক ভাষার রাজনীতির এক জীবন্ত দলিল এই ছবি৷
রাজবংশী শব্দ 'ডাউকি'-র বাংলা অর্থ 'ডাহুক পাখি'। লুপ্তপ্রায় ডাহুক পাখির বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মতোই, এই ছবি এক আদি জনজাতির হারিয়ে যাওয়া শিকড় ফিরে পাওয়ার নিরন্তর সংগ্রামকে তুলে ধরে।
বলা হয়, জাত্যাভিমান হারালে জাতির অবক্ষয় অনিবার্য।বিশ্বায়নের যুগে যেখানে সারা বিশ্বে শক্তিশালী সংস্কৃতির দাপটে কিছু ভাষা এবং সংস্কৃতি প্রান্তিক হয়ে যাচ্ছে, সেখানে রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড় খোঁজার এক সাহসী উড়ান 'ডাউকি'।
ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন রাজবংশী ভাষার এক কবি, যিনি নিজের মাতৃভাষায় কবিতা প্রকাশের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। মেয়েকেও পরিচয় করাচ্ছেন সেই ভাষার সঙ্গে, যে ভাষা অন্যান্য শক্তিশালী ভাষার আগ্রাসনে 'উপভাষা'র তকমা পেয়ে প্রান্তিক হয়ে পড়েছে৷
'তিস্তা বুড়ির পুজো' কিংবা 'মেচেনি খেলা'র মতো নিজস্ব প্রাচীন ধর্মীয় প্রথা ও উৎসবগুলোর সঙ্গে পরিচয় করান মেয়ের৷ নিজস্ব আত্মপরিচয় ও স্বকীয়তা ফিরে পাওয়ার লড়াই, শিকড়কে চেনায় এই ছবি৷
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি অঞ্চলে চিত্রায়িত হয়েছে ছবিটি। বিখ্যাত গবেষক দীনেশ চন্দ্র রায় ও সঙ্গীতশিল্পী দীপ্তি রায় সহ তুক্খা একাডেমির সকলের সহায়তায় নির্মিত এই ছবি৷ কার্যনির্বাহী প্রযোজক ময়নাগুড়ির প্রখ্যাত লোকশিল্পী অনিন্দিতা রায়।
সুপ্রাচীন এই জনজাতির নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টি ও লোককথা থাকা সত্ত্বেও কেন এতদিন রাজবংশী ভাষায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ ছবি তৈরি হয়নি? কেন তাদের কথা এতদিন অব্যক্তই রয়ে গেল? 'ডাউকি' সেই দীর্ঘকালীন বঞ্চনার প্রশ্নটিই তোলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরও দিয়েছে৷
ছবিটিতে অভিনয় করেছেন পরিমল রায়, রিনা রায়, শ্রেয়সী রায়, বাপি রায় প্রমুখ রাজবংশী শিল্পী। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন কল্পতরু জানা। এছাড়াও সুবীর রায়, রাজেশ রায়, সংঘমিত্রা রায়, প্রসেনজিৎ বর্মণের মতো বহু রাজবংশী শিল্পীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছবিটিকে সমৃদ্ধ করেছে।















