বলিউডে স্পাই থ্রিলারের ইতিহাসে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে ১৬ ডিসেম্বর। মুক্তির ২৪ বছর পর আবারও সেই ছবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। পরিচালক মণি শঙ্কর নিজেই জানালেন, ছবির সিক্যুয়েল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

২০০২ সালে মুক্তির সময় ‘১৬ ডিসেম্বর’ শুধু একটি থ্রিলার ছিল না, বরং প্রযুক্তিনির্ভর গল্প বলার এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিল। আজকের দিনে যে প্রযুক্তিগুলি বাস্তব—তখন সেগুলিই ছিল ছবির গল্পের কেন্দ্রে। হোলোগ্রাফিক নজরদারি থেকে শুরু করে ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড কমান্ড, শহরজুড়ে ক্যামেরা নেটওয়ার্ক, এথিক্যাল হ্যাকিং, সবকিছুই সেই সময়ের বলিউডে কার্যত অচেনা ছিল। সেই ছবিতে মুখ্যভূমিকায় দেখা গিয়েছিল ড্যানি ডেনজংপা, মিলিন্দ সোমান-কে। বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করেছিল ‘১৬ ডিসেম্বর’ ।

ছবির ক্লাইম্যাক্সে এক ভয়েস-নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ডিভাইস হ্যাক করার দৃশ্য বিশেষভাবে আলোচিত হয়। সেই সঙ্গে গুলশন গ্রোভার-এর সংলাপ, “দুলহন কি বিদাই কা ওয়াক্ত বদলনা হ্যায়”—আজও ছবিটির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই ছবির মাধ্যমেই ভারতীয় শহরভিত্তিক নজরদারি কেন্দ্র বা ‘সারভেইলেন্স কমান্ড কন্ট্রোল’ ধারণাটি প্রথমবার পর্দায় স্পষ্টভাবে উঠে আসে, যা পরবর্তী সময়ে স্পাই ঘরানার ছবিতে প্রায় বাধ্যতামূলক উপাদান হয়ে দাঁড়ায়।

একইসঙ্গে, ছবির নারী চরিত্র শেবা, যিনি অ্যাকশন-নির্ভর, সংযত এবং দৃঢ়চরিত্র। বলিউডে পরবর্তী সময়ে একাধিক নারী গুপ্তচর চরিত্রের রূপরেখা তৈরিতে প্রভাব ফেলেছিল।

এই প্রেক্ষাপটেই পরিচালক মণি শঙ্কর জানিয়েছেন, ‘১৬ ডিসেম্বর টু’-এর চিত্রনাট্য প্রায় প্রস্তুত। তাঁর দাবি, নতুন ছবিটিও আগের মতোই প্রাসঙ্গিক ও সমসাময়িক হবে। ইতিমধ্যেই চিত্রনাট্যটি তাঁর নামে বুকড হয়েছে এবং প্রযোজনার দায়িত্বও তিনি নিজেই নিতে চলেছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রজেক্টটি শীর্ষ তারকাদের কাছে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রথম ছবির সময় যে ধরনের প্রযুক্তি কল্পনার পর্যায়ে ছিল, আজ তা বাস্তবের অংশ। সেই বাস্তবতার মধ্যেই দাঁড়িয়ে নতুন গল্প কতটা সমকালীন হয়ে উঠতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ‘১৬ ডিসেম্বর টু’-এও কি দেখা যাবে ড্যানি-মিলিন্দকে? এই প্রশ্নের জবাবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন পরিচালক।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট। দু’দশক পর ফিরে আসতে চলা এই সিক্যুয়েল ইতিমধ্যেই প্রত্যাশার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।

 

 

&t=2069s