বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল মুম্বই পুলিশ। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয় দেখানো এবং দিনের পর দিন হেনস্থা করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আগেই এনেছিলেন অভিনেত্রী। সেলিনার এই অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বইয়ের ভারসোভা থানায় অস্ট্রিয়ান নাগরিক পিটার হাগের বিরুদ্ধে এবার ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট কিছু ধারায় মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সেকশন ৮৫, ১১৫(২),৩৫১(২) এবং ৩৫২।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিটার হাগ তদন্তে কোনও রকম সহযোগিতা করছেন না। আর সেই কারণেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ‘লুক আউট সার্কুলার’ জারি করা হয়েছে, যাতে তিনি আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।
তবে এটিই প্রথম নয়, গত বছরই সেলিনা জেটলি মুম্বইয়ের আন্ধেরি আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করেছিলেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, তিনি নিজের সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ কোটি টাকা দাবি করেছেন। বর্তমানে পারিবারিক সুরক্ষা আইনের পাশাপাশি ফৌজদারি ধারাতেও পিটারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু হল।
এর আগে সেলিনা জানিয়েছিলেন তাঁকে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং শিশুদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধেই ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ভারতে ফিরে নিজেরই বাড়িতে ঢোকার অধিকার পেতেও তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ওই সম্পত্তিটি তিনি ২০০৪ সালে কিনেছিলেন, বিয়ের বহু আগে। অথচ সেই বাড়ির উপরও এখন স্বামী দাবি করছেন বলে অভিযোগ। এই আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তাঁকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতেও হয়েছে।
সেলিনা আরও জানান, তাঁর ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “একটি উপহারের অজুহাতে আমাকে স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে গিয়ে ডিভোর্স নোটিশ দেওয়া হয়।”
এরপর তিনি শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। বরং তাঁর বিয়ের আগের সম্পত্তি নিয়ে দাবি করা হয় এবং এমন সব শর্ত চাপানো হয়, যা তাঁর স্বাধীনতা ও সম্মান কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে তিনি দাবি করেছিলেন।















