মিল্টন সেন, হুগলি: গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত জেলা বিজেপি। প্রথমদফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই শোরগোল জেলা বিজেপিতে। দ্বিতীয় দফার পরেও জেলায় ফাঁকা রয়েছে পাঁচ কেন্দ্র। কারণ ফাঁকা প্রত্যেক কেন্দ্রে একাধিক প্রার্থী পদের দাবিদার। তাই, অনেকেই সন্তুষ্ট নন, ছুটেছেন দিল্লিতে। কেউ আবার দৌড়চ্ছেন রাজ্য বিজেপি দপ্তরে। 

এর মধ্যেই বলাগড় কেন্দ্রে ঘোষিত প্রার্থীকে মানতে নারাজ দলীয় কর্মীরা। শুক্রবার দলবেঁধে তারা চড়াও হলেন দলের জেলা কার্যালয়ে। 'প্রার্থী মানছে না', কর্মীরা এই মর্মে স্লোগান দিতে দিতে চলল ভাঙচুর। কর্মীদের দাবি, তারা বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকারকে কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না। জেলা সদর শহর চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী পদের দাবিদার একাধিক। প্রার্থী পদের সরাসরি দাবিদার বর্তমান জেলা বিজেপি সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জি, প্রাক্তন জেলা বিজেপি সভাপতি সুবীর নাগ, বর্তমান বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ। 

প্রাক্তন জেলা বিজেপি সভাপতি এবং বিজেপি রাজ্য সম্পাদকের বিবাদ সর্বজন বিদিত। তাই নিজেদের টিকিট ফাইনাল করতে তাঁরা দিল্লিতেই বাসা বেঁধেছেন। প্রার্থী পদের দৌড়ে না থাকলেও শোনা যাচ্ছে চুঁচুড়া জেলা সদরের বিখ্যাত শিশু চিকিৎসক ইন্দ্রনীল চৌধুরী এবং আইনজীবী স্বপন পালের নাম। এই দুজনকে তেমনভাবে রাজ্য বা কেন্দ্রে দরবার করতেও দেখা যায়নি। 

অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি জেলা সদর চুঁচুড়া, চন্দননগর, উত্তরপাড়া, সিঙ্গুর এবং হরিপাল কেন্দ্রে। বিজেপি সূত্রে খবর, আরএসএসের তরফে চুঁচুড়া কেন্দ্রে শিশু বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল চৌধুরীকে পছন্দ করছেন। কারণ রাজনৈতিক আবহে তাঁকে দেখা না গেলেও ব্যক্তিগত ইমেজ ভালো। আবার আইনজীবী স্বপন পাল দীর্ঘ দিনের বিজেপি কর্মী। নানা সময়ে থেকেছেন জেলা এবং রাজ্য বিজেপির নানান পদে। 

গত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে চন্দননগর কেন্দ্রে প্রায় চল্লিশ হাজার ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ। তাই এবারের নির্বাচনে তিনি চন্দননগরে যেতে নারাজ। তাঁর নজর চুঁচুড়া কেন্দ্রের দিকে।

গত নির্বাচনে বিজেপি সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি নিজেই প্রার্থী হয়েছিলেন চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে। তাই টিকিট না পেয়ে এক প্রকার বসেই ছিলেন প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুবীর নাগ। তাই এবারের নির্বাচনে তিনি চুঁচুড়া আসন ছাড়তে একেবারেই রাজি নন। এই নিয়ে প্রকাশ্যে একাধিকবার বচসায় জরাতেও দেখা গিয়েছে এই দুই বিজেপি নেতার অনুগামীদের। তাই এই দুই গোষ্ঠীর লড়াইকে কেন্দ্র করে কার্যত ধন্ধে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। 

পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, এখনও পর্যন্ত বিজেপির প্রকাশিত তালিকায় মহিলা কর্মীদের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষুব্ধ বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরাও। যখন রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থীরা জেলা জুড়ে একপ্রস্ত নির্বাচনী প্রচার সেরে ফেলেছেন। সেই সময়ে দাঁড়িয়েও বিজেপি দলের প্রার্থী হওয়া নিয়ে সঙ্কট অব্যাহত। সর্বোপরি, ঘোষিত প্রার্থীকে মানতে পারছেন না কর্মীরা, কোথায় কে দাঁড়াবে তা নিয়ে লড়াই চলছে দলের অন্দরেই।