আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে জিততে এবার মা কালীর শরণাপন্ন হলেন তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগেই শুক্রবার দুপুরে কান্দি শহরের বিখ্যাত যশোহরি-আনুখা কালীমন্দিরে হাজির হন কান্দির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকার ডেভিড।
অপূর্ব সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বও দেওয়া হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হলেও হিন্দু সম্প্রদায়েরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করা তৃণমূলের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে, যাতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা পৌঁছানো যায়।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি-র মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বারবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে তোষণের অভিযোগ এনেছে। তাই মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করে প্রথমেই বিজেপি-র প্রচারের অন্যতম একটি অস্ত্রকে ভোঁতা করে দিতে চাইছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীরা মন্দির, মসজিদ বা অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন, যা দলের 'সবার জন্য' নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০০৬ সালে অধীর চৌধুরী সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে কান্দি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার জিতে বিধানসভায় গিয়েছিলেন অপূর্ব সরকার। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিয়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পর্যন্ত তিনি কান্দি বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন। ২০১৯ সালে কান্দি বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী সফিউল আলম খান বনু ওই কেন্দ্রে জয়ী হন। এই ঘটনার দু'বছর কাটতে না কাটতেই ২০২১ সালে ফের একবার কান্দি বিধানসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় যান অপূর্ব সরকার।
জয়ের সেই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ভোট প্রচারের প্রথম দিনই কান্দি শহরের জাগ্রত যশোহরি-আনুখা কালীমন্দিরে গিয়ে দেবীর আশীর্বাদ নেন অপূর্ব সরকার। সেই সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কান্দি বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত বিভিন্ন পঞ্চায়েত, কান্দি পঞ্চায়েত সমিতি এবং পুরসভা ও ব্লক স্তরের একাধিক নেতা।
মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস সাংগঠনিক জেলা সভাপতি আজ দলের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে যশোহরি -১ গ্রাম পঞ্চায়েতের রাস্তায় হেঁটে এবং বাড়িতে গিয়ে নির্বাচনী প্রচার সারেন। আগামী দিনও একইভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চলবে বলে কান্দির বিদায়ী বিধায়ক জানিয়েছেন।
কান্দি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে ফের একবার মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে অপূর্ব সরকার বলেন," যে কোনও নির্বাচনের প্রচার আমি আনুখা কালী বাড়িতে পুজো দিয়েই শুরু করি। আজ এই মন্দিরের সমস্ত স্তরের নেতারা রয়েছেন। আমার জয়ের জন্য সকলের দুয়া এবং আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।"
২০১৯ সালে কান্দি বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী কংগ্রেস প্রার্থীর শফিউল আলম খান বনু দিন কয়েক আগে অপূর্ব সরকারের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তার ফলে দল আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়ে অপূর্ব সরকার বলেন," এই বিধানসভা এলাকার সমস্ত পথঘাট ,মানুষ আমার চেনা। নির্বাচনের আগে সকলের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি এবং আবেদন রাখছি বাংলা বিরোধী শক্তি, বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য।"
প্রসঙ্গত কান্দি বিধানসভা আসনে এবছর বিজেপি তাদের দলের তরফ থেকে গার্গী দাস ঘোষকে প্রার্থী করেছে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসের হায়দারকে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দল , আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। কংগ্রেস এখনও তাদের দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
অপূর্ব সরকার বলেন,"কান্দি বিধানসভা এলাকার প্রচুর মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সার এবং রাসায়নিকের দাম বাড়িয়ে চলেছে। ফলে কৃষকেরা প্রচন্ড অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। এর পাশাপাশি চাষের জমিতে প্রয়োজনীয় জলও দিতে পারছেন না কৃষকেরা। শ্যালো পাম্প চালানোর জন্য 'কন্টেনারে' করে পেট্রোল বা ডিজেল আনতে গেলে পেট্রল পাম্প থেকে সেটাও পাচ্ছেন না তারা।" এই কারণেও বিজেপির বিরুদ্ধে সকলকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান অপূর্ব সরকার।
তিনি বলেন," তৃণমূল কংগ্রেস বিভেদের রাজনীতি করে না। তাই সমস্ত ধর্মের এবং বর্ণের মানুষ আজ আমরা একত্রিত হয়ে প্রচার ভোটের প্রচার করতে বার হয়েছি।"
