আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে এ বার পালাবদল। তার ঢেউ আছড়ে পড়েছে মুর্শিদাবাদেও। ‘তৃণমূলের দুর্গ’ বলে পরিচিত এই জেলায় এবার কার্যত গেরুয়া ঝড় উঠেছে। ২২টি আসনের মধ্যে ৮টি-ই গিয়েছে বিজেপির দখলে। বাদ যায়নি জেলার সদর শহর বহরমপুরও। গত একুশের নির্বাচনের মতো এবারও এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র কাঞ্চন।

ফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বহরমপুর শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর। অভিযোগ, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে সেখানে বিজেপির গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ময়দানে নামলেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র।

এদিন সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন সুব্রত মৈত্র। যে সমস্ত তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করে বিজেপির পতাকা লাগানো হয়েছিল, সেখান থেকে নিজে হাতে গেরুয়া পতাকা খুলে নেন তিনি। 

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুব্রতের স্পষ্ট বার্তা, “আমাদের দল তৃণমূলের মতো হার্মাদ বাহিনী পোষে না। কোনও ধরনের সন্ত্রাস আমরা মেনে নেব না। দখল করা, ভাঙচুর করা, এগুলো তৃণমূলের সংস্কৃতি, বিজেপির নয়।”

তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “সোমবার রাতে তৃণমূলের লোকজনই ভারতীয় জনতা পার্টিকে কলঙ্কিত করার জন্য নিজেদের পার্টি অফিস ভাঙচুর করে সেখানে আমাদের পতাকা লাগিয়েছে। এই চক্রান্ত ফাঁস করতেই আমি নিজে এসে পতাকা খুলে দিলাম। মানুষকে বোঝাতে চাই, বিজেপি বদলের রাজনীতি করে, বদলার নয়।”

শুধু হিংসা রোখাই নয়, বহরমপুর শহরের দীর্ঘদিনের ‘দুর্নীতি-চক্র’ নিয়েও এদিন সরব হন সুব্রতবাবু। তাঁর অভিযোগ, “বিগত কয়েক বছর ধরে বহরমপুরের তৃণমূল নেতারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তোলা আদায় করে চলেছে।”

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ওয়াইএমএ মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের নামে রোজ সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হয়েছে। গঙ্গার ধারে সৌন্দর্যায়নের নামে সরকারি টাকা নয়ছয় করে সেখানে বেআইনি দোকান বসিয়ে মাসোহারা তুলেছে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। এই কাটমানি-রাজ খতম হবে।”

 হুঁশিয়ারি দিয়ে সুব্রত বলেন, “আজ থেকে কোনও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তৃণমূল নেতাদের এক পয়সাও কাটমানি দেবেন না। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক।”