আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের ডিউটি সেরে ফেরা হলো না আর। নির্বাচনী আবহে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই রহস্যমৃত্যু এক সিআরপিএফ জওয়ানের। শুক্রবার ভোরে দিঘার একটি স্কুল ক্যাম্পে নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন ওই জওয়ান। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত জওয়ানের নাম বীরেন্দ্র সিং (৪৩)। তিনি সিআরপিএফের ১৩১ আলফা ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তাঁর বাড়ি হরিয়ানায়। লোকসভা নির্বাচনের ডিউটি করতেই তিনি এ রাজ্যে এসেছিলেন। দিঘা বিদ্যাভবন হাই স্কুলের অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকছিলেন তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, এদিন ভোর ৫টা নাগাদ হঠাৎই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে স্কুল চত্বর। সহকর্মীরা ছুটে গিয়ে দেখেন, নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে মাথায় গুলি চালিয়েছেন বীরেন্দ্র। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আছেন তিনি। তড়িঘড়ি ক্যাম্পের মেডিক্যাল টিমকে ডাকা হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঠিক কী কারণে ওই জওয়ান আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও পারিবারিক অশান্তি নাকি কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ, জানা যায়নি এখনও। জওয়ানের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ ও সিআরপিএফের উচ্চপদস্থ কর্তারা। জওয়ানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
অন্যদিকে, কিছুদিন আগেই নির্বাচনী প্রচারের আবহে ফের অশান্তির অভিযোগ উঠে এল কোচবিহারে। বিজেপি প্রার্থীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
জানা গিয়েছে, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস এদিন সুটকাবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, প্রচার সেরে ফেরার সময়ই তাঁর কনভয়ের উপর হামলা চালানো হয়। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু দুষ্কৃতী আচমকা কনভয় ঘিরে ফেলে এবং গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়া শুরু করে।
অভিযোগ, হামলাকারীরা বাঁশ ও লাঠি নিয়ে কনভয়ের উপর চড়াও হয়। কনভয়ের একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিজেপির এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর মাথা ফেটে যায় বলে দাবি বিজেপির। আহত কর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কোনওরকমে সেখান থেকে বিজেপি প্রার্থীকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর বিজেপি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের ভয় দেখাতে এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।
যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ইস্যুতে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ায় এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাটি সেই জনরোষেরই বহিঃপ্রকাশ। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই বলে দাবি তাদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহার জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।
















