আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য এক বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ভোট উৎসবে যাতে প্রতিটি নাগরিক নির্বিঘ্নে শামিল হতে পারেন, সেজন্য ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় 'পেইড হলিডে' বা সবেতন ছুটি ঘোষণা করেছে কমিশন। শুক্রবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, শুধু স্থায়ী কর্মীই নন, দৈনিক মজুর ভিত্তিক বা ক্যাজুয়াল কর্মীরাও এই ছুটির আওতাভুক্ত হবেন। অর্থাৎ, ভোট দিতে যাওয়ার জন্য কোনও কর্মীর বেতন কাটা যাবে না।
2
5
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩৫বি ধারা অনুযায়ী যেকোনও ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্প সংস্থা বা অন্য যেকোনও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, যাঁদের সংশ্লিষ্ট বিধানসভা বা লোকসভা কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে, তাঁরা এই ছুটির সুবিধা পাবেন। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি— এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং সেই সঙ্গে গোয়া, গুজরাট, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরার আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।
3
5
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে সকল কর্মী তাঁদের কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোনও নির্বাচনী এলাকার ভোটার, তাঁরাও ওই নির্দিষ্ট দিনে ছুটি পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও ব্যক্তি এমন কোনও শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন যা তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে, তবুও তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য এই সবেতন ছুটি দাবি করতে পারবেন। কমিশন কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করে যদি কোনও নিয়োগকর্তা কর্মীর বেতন কাটেন বা কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং মোটা টাকা জরিমানা করা হবে।
4
5
ভোটের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল আসাম, কেরালা, পুদুচেরি, গোয়া, কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। তামিলনাড়ু, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটপ্রক্রিয়া দু’টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে— প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এই প্রতিটি দিনই সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মীদের জন্য ছুটির দিন হিসেবে গণ্য হবে।
5
5
রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে ইসিআই। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ ভোটাররা যাতে কোনও ভয় বা বাধা ছাড়াই স্বচ্ছন্দে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। সব শেষে আগামী ৪ মে ২০২৬ তারিখে এই সমস্ত বিধানসভা ও উপনির্বাচনের ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হবে। দিনমজুর থেকে শুরু করে কর্পোরেট কর্মী— গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে প্রত্যেকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।