ইন্দ্রজিৎ সাহু, কেশিয়াড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেশিয়াড়ি ব্লকে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল শুক্রবার সকালে। তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী রামজীবন মান্ডি-র নির্বাচনী প্রচার ঘিরে বিজেপি শিবিরে ধস নেমেছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।

জানা গিয়েছে, এদিন সাঁতরাপুর ৩ নম্বর অঞ্চলের ওলদা গ্রামে প্রচারে যান রামজীবন মান্ডি। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বুথভিত্তিক প্রচার চালানোর সময় হঠাৎই গ্রামের পাঁচটি পরিবার তাঁর সামনে এসে বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে প্রার্থীর হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন।

নবাগতদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু বাস্তবে এলাকার উন্নয়নে তেমন কোনও কাজ হয়নি। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং প্রার্থীর পরিষ্কার ভাবমূর্তি তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে বলে জানান তাঁরা।

গ্রামবাসীদের কথায়, “আমরা চাই এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন হোক। সেই কারণে আমরা রামজীবন মান্ডিকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে চাই, যাতে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ে।”

এই যোগদান প্রসঙ্গে রামজীবন মান্ডি বলেন, সাধারণ মানুষ মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন। বিরোধীদের অপপ্রচার যে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারছে না, ওলদা গ্রামের এই যোগদানই তার প্রমাণ।

তিনি আরও জানান, এই সমর্থন তাঁর জয়ের ব্যবধানকে আগামী দিনে আরও বাড়াবে।

অন্যদিকে, প্রার্থীকে সামনে পেয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন গ্রামবাসীরা। উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। শেষমেশ প্রচার না সেরেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হলেন বর্ধমান উত্তরের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস। সোমবার বৈকুণ্ঠপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

সোমবার সকালে ব্যান্ডপার্টি ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বৈকুণ্ঠপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন সঞ্জয়বাবু। অভিযোগ, হুডখোলা গাড়িতে চড়ে যখন তিনি জনসংযোগ সারছিলেন, তখনই তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় মহিলাদের একাংশ। মেজাজ হারিয়ে সরাসরি তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কে? আপনাকে তো এলাকায় কোনও দিন দেখিনি!”

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সারা বছর আপদে-বিপদে যাঁদের পাশে পাওয়া যায় না, ভোটের মুখে তাঁদের ভোট চাওয়ার কোনও অধিকার নেই। বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায় রাজ্য সরকারের উন্নয়নের জয়গান। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, “আমরা দিদিকেই চাই।” পরিস্থিতি হাতের বাইরে দেখে হাতজোড় করে গ্রামবাসীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। শেষপর্যন্ত প্রচার কাটছাঁট করেই এলাকা ছাড়েন তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপর অভিযোগ, তৃণমূল এইসব করাচ্ছে। বিজেপির জনসংযোগে ভয় পেয়েই পরিকল্পনা করে মহিলাদের সামনে এগিয়ে দিচ্ছে শাসকদল। গেরুয়া শিবিরের আরও অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। প্রার্থীকে এলাকায় দেখা যায় না বলেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সাধারণ ভোটারের প্রশ্নের মুখে পড়ে এখন তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায় এড়াতে চাইছে বিজেপি।