আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের 'ভোট অ্যাট হোম' উদ্যোগে বাড়ি বসেই ভোট দিলেন ময়নাগুড়ির গর্ব মঙ্গলাকান্ত রায়। প্রশাসনের এই তৎপরতায় খুশি শতায়ু এই মানুষটি।
ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধওলাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা পদ্মশ্রী মঙ্গলাকান্ত রায়। বয়স ১০৪ বছর হওয়া সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে তাঁর উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিয়ম মেনে ভোট কর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান এবং পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করেন।
বয়স ১০০ পেরিয়েছে। হাতে উঠেছে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ এবং রাজ্যের ‘বঙ্গরত্ন’। কিন্তু, এই ঝকঝকে পুরস্কারের আড়ালে যে চরম দারিদ্র্য লুকিয়ে আছে, ভোট দিয়ে আজ সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ময়নাগুড়ির আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধওলাগুড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ সারিন্দা বাদক মঙ্গলাকান্ত রায়। বাড়ির শান্ত পরিবেশে বসেই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোটদান শেষে হাসিমুখে আঙুলের কালির দাগ দেখালেও, তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ল একরাশ আক্ষেপ।
ভোট দানের পর এদিন তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,পুরস্কার আছে, কিন্তু তার কাছে কোন সাহায্য নেই। সরকার তাঁকে দু'হাত ভরে সম্মান দিলেও অভাব মোচনে এগিয়ে আসেনি কোনো পক্ষই। এক সময় বার্ধক্য ভাতা পেতেন, কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অজ্ঞাত কারণে তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বঙ্গরত্ন সম্মানের সময় রাজ্য সরকারের দেওয়া এক লক্ষ টাকাই ছিল তাঁর শেষ বড় প্রাপ্তি। রাজনৈতিক মহল এখন দাবি করছে,মঙ্গলাকান্ত রায়ের এই বয়ান আবারও প্রমাণ করল যে, শিল্পীর সম্মান রক্ষা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁর পেটের সংস্থান অবহেলিতই থেকে যায়।















