আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বড় উৎসবের রোল মডেল হওয়া উচিৎ পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের করঙ্গপাড়া গ্রামের। কারণ, এই গ্রামে ভোট প্রচারের জন্য থাকে না কোনও দেওয়াল লিখন, পোষ্টার, ব্যানার! এমনকি প্রার্থীদের প্রচারের সময় দলীয় কর্মীদের হাতে দেখতে পাওয়া যায় না কোনও দলীয় পতাকাও।

কয়েকশো বছরের পুরোনো বর্ধিষ্ণু গ্রাম করঙ্গপাড়া। এই গ্রাম থেকেই হয়েছে একজন বিধায়ক, চার চারজন দুর্গাপুর পুরনিগমের কাউন্সিলর। আর এবারের বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থীও এই গ্রামেরই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলায়নি রীতি। ভোটের প্রচার তুঙ্গে থাকলেও ব্যতিক্রম দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের এই গ্রাম।

কবে থেকে এই প্রথা চালু হয়েছিল? জানেন না এখনকার প্রজন্ম। তবে এই গ্রামের মানুষ খুশি এই প্রথায়। এই গ্রামের মানুষ রাজনৈতিক সচেতন, এতে অবশ্য কোনও দ্বিধা নেই। 

করঙ্গপাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি বছর চুরাশির পরিমল দত্তের বক্তব্য, "মনে হয় দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। কোনও রাজনৈতিক সংকীর্ণতা, দলাদলি, হানাহানির কারণে গ্রামের পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়। এই কারণেই আমাদের পূর্ব পুরুষরা রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করেছিলেন।" 

এই গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বনাথ পারিয়াল প্রথমে কাউন্সিলর পরে বিধায়ক হয়েছেন। দেবব্রত সাঁই, প্রিয়াঙ্কি পাঁজা, চন্দ্রশেখরের ব্যানার্জী কাউন্সিলর হয়েছেন। দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্তের বক্তব্য, "রাজনীতির বাইরে গিয়ে বলতে পারি আগামী দিনে হয়তো এই গ্রামই ভোট প্রচারের রোল মডেল হতে পারে। গ্রামের এই রীতি আমি সম্মান করি।" 

বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই বলেন, "এই গ্রামে নতমস্তকে প্রণাম জানাই। যত বছর রাজনীতি করছি, এই গ্রামে দেখে অবাক হয়ে যাই।" সিপিআইএম প্রার্থী প্রভাস সাঁই গ্রামের মানুষদের স্যালুট জানিয়েছেন। তিনি বলেন," এই পরিচ্ছন্ন দেওয়ালই এই গ্রামের সৌন্দর্য, যা সব দল সম্মান করে।"