আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোট পরবর্তী হিংসা থামানো ও শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত আলোচনা সারতে নবান্নে আজ মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে শমীক জানান, "ছবি দিন, নাম দিন। আমি ব্যবস্থা নেব। এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। হিংসা বন্ধ করতে না পারলে ইস্তফা দেব।" 

 

এদিন শমীক আরও বলেন, "যদি বিজেপির পতাকা নিয়ে তৃণমূলের লোকজন তৃণমূলের ওপর অত্যাচার করেন, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ এখনও পর্যন্ত আমরা সরকার গঠন করিনি। আমি ছ'মাস আগে থেকেই প্রত্যেককে বলেছিলাম, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল চলে গেছে, তৃণমূল চলে যাচ্ছে, চলে যাবেও। তৃণমূল চলে যাওয়ার পর সরকার গঠন হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে, তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।" 

 

এরপর তিনি আরও বলেন, "আজ কিছু নব্য বিজেপি রয়েছেন, যাঁরা সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছেন। এঁদের আমরা দল থেকে বের করে দেব। বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না।" তাঁর কথায়, "যাঁরা ১৯৮০-৯০ সাল থেকে নিজেদের ঘাম, রক্ত দিয়ে বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন, তাঁর জন্যেই বিজেপি জিতেছে। অশান্তির খবর পেলে দরকার হলে আমি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করব। আমরা জিতলাম, অথচ আমাদের দু'জন কর্মী মারা গেলেন। তা সত্ত্বেও আমরা অশান্তি চাই না। কারা এরকম করছেন, নাম দিন, ছবি দিন, আমরা গ্রেপ্তার করাব। আমি কথা দিচ্ছি। না হলে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেব।" 

১৫ বছর পর বাংলায় পালাবদল। এবার বাংলার মসনদে কে, তা নিয়েও জোর জল্পনা। চলতি সপ্তাহান্তেই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে হাজির বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। 

 

দুই শতাধিক আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রথমবার নবান্নে এলেন শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার দুপুর ৩টে নাগাদ শমীক নবান্নে প্রবেশ করেন। আগামী শনিবার ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিবর সঙ্গে আলোচনা করবেন। 

 

এদিন নবান্নে প্রবেশ করার আগে শমীক ফের বলেন, "ভোট-পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।" এর আগে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, "শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান। তার আগে ৮ মে বিধায়কদলের বৈঠক হবে নিউটাউন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে।"