আজকাল ওয়েবডেস্ক: সৌজন্যের কোনও রং নেই। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে সেই বিরল সৌজন্য চোখে পড়ল। ভোটের লড়াই শেষে এবার উন্নয়নের স্বার্থে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মুখোমুখি হলেন বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়ক। কুশল বিনিময় ছাড়াও এলাকায় উন্নয়ন নিয়েও হল মত বিনিময়।

 

ঘটনাটি খুব নাটকীয়। এলাকায় শান্তি ফেরাতে গিয়ে মুখোমুখি হলেন সৌমেন ও মানগোবিন্দ। নির্বাচনী উত্তাপ সরিয়ে রেখে ভাতারেও দেখা গেল রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক বিরল দৃশ্য। সৌজন্য আর দায়িত্ববোধের নজির গড়ে নবনির্বাচিত তরুণ বিধায়ক সৌমেন কার্ফা সাক্ষাৎ করলেন সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর সঙ্গে। বুধবার দুপুরে ভাতারের এরুয়ার গ্রামে দুই ‘আগুরি’ (উগ্রক্ষত্রিয়) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির এই সাক্ষাৎ এলাকায় ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

 

এদিন এরুয়ার গ্রামে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সৌমেন কার্ফা। এখানে মানগোবিন্দ 'বেতাজ বাদশা'। সেখানেই দেখা হয়ে যায় মানগোবিন্দ অধিকারীর সঙ্গে, যিনি তখন মাঠ থেকে ধান জমির কাজ দেখে সাইকেলে ফিরছিলেন।

 

সিনিয়র প্রাক্তন বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী নবনির্বাচিত বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানান এবং অনুরোধ করেন, তাঁর কিছু অসম্পূর্ণ কাজ যেন সৌমেনবাবু গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করেন। 

 

পাল্টা সৌজন্য দেখিয়ে সৌমেন কার্ফা প্রবীণ নেতাকে মনে করিয়ে দেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তাঁর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরে মানগোবিন্দবাবু জানান, "এখন তোমরাই শাসক, দায়িত্ব তোমাদেরই।" হিংসা রুখতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উঠেছে।ভোট পরবর্তী হিংসায় যাতে কোনও প্রাণহানি বা অশান্তি না ঘটে, তার জন্য প্রথম থেকেই তৎপর সৌমেন কার্ফা।

 

গতকাল তিনি নিজেই ছোট হাতি গাড়ির মাথায় চেপে এলাকায় এলাকায় শান্তির জন্য প্রচার চালিয়েছিলেন। আজকের এই পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাতার থানার পুলিশ আধিকারিকরা। উভয় নেতার করমর্দন এবং পারিবারিক খোঁজখবর নেওয়ার দৃশ্য সাধারণ মানুষের মনে একটা আশার সঞ্চার করেছে।

 

এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ভাতার পুলিশ প্রশাসনও সজাগ হয়েছে। এদিন পরিদর্শনের সময় ভাতার থানার ওসি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেন এবং এলাকায় সম্প্রীতি বজায় রাখেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও, দুই আগুরির এই আলাপচারিতা নির্বাচন পরবর্তী উত্তপ্ত আবহাওয়ায় যেন একঝলক ঠান্ডা বাতাস।