আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের ফলপ্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর। সোমবার রাতে দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ মানশ্রী এলাকায় যাদব বর নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের দাবি, তিনি বিজেপি সমর্থক ছিলেন। জয়ের আনন্দে মেতে ওঠায় তাঁকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করেছে দুষ্কৃতীরা।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস শুরু হয়। দক্ষিণ মানশ্রীর বাসিন্দা যাদব বরও সেই আনন্দে সামিল হয়েছিলেন। পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে পিকনিক এবং আবির খেলায় অংশ নেন তিনি। রাত বাড়লে পিকনিক সেরে বাড়ি ফিরে আসেন যাদব। কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে সামান্য দূরে স্নান করতে বেরোলে আচমকাই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ, বেশ কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি যাদবকে ঘিরে ধরে। রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। রক্তাত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। সেই সুযোগে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, "পরিবারের লোক স্পষ্ট জানিয়েছে, হামলাকারীরা আক্রমণ করার সময় বলছিল— 'তুই বিজেপি করিস!' বিজেপি করার অপরাধেই তাঁকে প্রাণ দিতে হল।" তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, যেখানে তৃণমূল কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছেন, সেখানে তারা কাউকে মারবে এটা অবাস্তব। এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।
&t=125s
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদয়নারায়ণপুর থানার পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই পরিচিত ব্যক্তির মধ্যে পুরনো কোনও বিবাদের জেরে এই হাতাহাতি এবং মৃত্যু। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নির্বাচন পরবর্তী এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।















