আজকাল ওয়েবডেস্ক:  প্রায় ২৫ বছর একটানা মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখার পর ২০২১- এর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে ওই আসনে পরাজিত হন কংগ্রেসের  প্রয়াত বিধায়ক মইনুল হক। 


কিন্তু পাঁচ বছর যেতে না যেতেই ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে এবছর প্রার্থী বদল করেছে রাজ্যের শাসক দল। মনিরুলের পরিবর্তে এবার ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ওই কেন্দ্রের 'জামাই' তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি আমিরুল ইসলাম। 

 

ফরাক্কার মতো শক্ত আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বদল করায় প্রথমে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে বিদায়ী বিধায়ক  মনিরুল ইসলাম প্রথম দিন বিদ্রোহ ঘোষণা করলেও সূত্রের খবর তিনি অন্য দলের প্রতীকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার পূর্ব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ।  বিদায়ী বিধায়কের সঙ্গে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের তাবড় নেতারা ইতিমধ্যে মনিরুল শিবির ছেড়ে আমিরুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন । সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ এই চেহারাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় স্বস্তি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। 

 

গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে সামশেরগঞ্জ আসন থেকে জয়ী আমিরুল ইসলামের আসন পরিবর্তন নিয়ে দলের অন্দরে অনেক রকমের কানাঘুষো শোনা গেলেও ফারাক্কার বাসিন্দা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ আমিরুল সেই সবে কান দিতে নারাজ। তৃণমূল বিধায়কের এক শ্যালক, হাবিব পারভেজ টনি ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের ২ নম্বর আসন থেকে তৃণমূলের প্রতীকেই নির্বাচিত সদস্য এবং প্রদেশ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। তাই অন্য বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ফরাক্কায় লড়তে গেলেও আমিরুলকে সংগঠন নিয়ে খুব একটা ভাবতে হচ্ছে না। 

 

পাশাপাশি তাঁর ভরসা মুর্শিদাবাদবাসীর অতিথিবৎসল মনোভাব।  একসময় 'দিল্লির বাসিন্দা' হিসেবে পরিচিত প্রণব মুখার্জিকেও জঙ্গিপুরবাসী  আপন করে নিয়ে পরপর দু'বার লোকসভা নির্বাচনে জিতিয়েছিলেন। তাই জামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়ির আসন থেকেও জিতবেন বলে আশাবাদী আমিরুল।  


তবে শ্বশুরবাড়ির বিধানসভা আসনে লড়তে যাওয়ার বিষয়টিকে আলাদা করে গুরুত্ব দিতে নারাজ আমিরুল ইসলাম।  তাঁর বক্তব্য, " দল চেয়েছিল বলেই ফরাক্কা আসনে আমি লড়তে রাজি হয়েছি।"
 
তিনি বলেন, " বিভিন্ন কারণে আমাদের দলের অনেক পুরনো কর্মীরা রাগ করে বসেছিলেন। দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ করতেন না। যেকোনও কারণেই হোক তাঁদের মধ্যে হতাশা ছিল। আমি সমস্ত পুরনো কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আবার সক্রিয়ভাবে দলীয় কাজ এবং  ভোট প্রচারে যুক্ত করার চেষ্টা করছি। দল মনে করেছে আমি ফরাক্কা আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জিতব। দলের এই ভরসাকে সম্মান দেওয়ার জন্য আমি চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছি না।"

 

ফরাক্কা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর বিশ্বাস তিনি সামশেরগঞ্জের বিধায়ক হিসেবে যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন আসন্ন নির্বাচনে তা ফরাক্কা কেন্দ্রে তাঁকে 'ডিভিডেন্ট' দিতে চলেছে। ফরাক্কা এবং সামশেরগঞ্জ - একদম গায়ে লাগা দু'টি বিধানসভা কেন্দ্র হওয়ায় দুই এলাকার মানুষই অবগত রয়েছেন তাঁর কাজ সম্পর্কে। 

 

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত মনিরুল ইসলামের হাত ধরে গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ায় তাঁর পক্ষে  বলা সম্ভব নয় ওই কেন্দ্র উন্নয়নমূলক কাজ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।


 
আমিরুল ইসলাম বলেন ,"সামশেরগঞ্জের মানুষ জানেন এমএলএ কাপের মাধ্যমে খেলার প্রসার থেকে শুরু করে নদী ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে কীভাবে আমি বারে বারে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। এখানে অস্বীকার করার জায়গা নেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ সত্ত্বেও মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের কর্মযজ্ঞের সুফল ফরাক্কা পেয়েছে। ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে সংগঠনে সবাইকে নিয়ে চলার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি ছিল। আমি সেটা দূর করার চেষ্টা করছি। প্রচারের মূল ইস্যু থাকছে মানুষের সমস্যা।'

 

তৃণমূল প্রার্থী আরও বলেন,"বাড়ি, রাস্তা, পানীয় জল সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের সঙ্গে বঞ্চনা করছে। সীমিত ক্ষমতা সত্ত্বেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ থেমে নেই।  ফরাক্কা এনটিপিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের কাছে এলাকার বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়ার  সুযোগ থাকলেও  কেন্দ্রীয় সরকার ফরাক্কার বাসিন্দাদের স্থায়ী চাকরি দেওয়ার কোনও উদ্যোগ নেয়নি।"


 
ফারাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে ২৫ বছর কংগ্রেসের নির্বাচিত বিধায়ক থাকলেও ২০২৬- এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর মূল লড়াই বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গেই হবে বলে মনে করেন তৃণমূল প্রার্থী, আমিরুল ইসলাম। 


তিনি বলেন, "এখানে কংগ্রেসের কোনও সংগঠন নেই। আর সংগঠন করার জন্য যে লোক লাগে তাও তাদের নেই। ফরাক্কা বিধানসভার ২৩৬টি বুথের সবগুলোতে তৃণমূলের কমিটি এবং বুথ সভাপতি রয়েছে। দলের মজবুত সংগঠনই আমাকে বিধানসভা নির্বাচনে  সাহায্য করবে।"
 
ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' হওয়ার প্রথম দিন তাঁর সঙ্গে যে সমস্ত তৃণমূল নেতাদের দেখা গিয়েছিল ইতিমধ্যে তাঁরা ঘর বদল করে আমিরুলের ছাতার তলায় এসেছেন। আমিরুল বলেন,"বিদায়ী বিধায়কও হয়তো আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। আমরা সবাই একসঙ্গে লড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আবার জেতাবো।"

&t=4s

আমিরুল জানান, খুশির ইদের পরেই তিনি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতারা ব্যাপক আকারে ফরাক্কার সমস্ত এলাকায় গিয়ে প্রচার শুরু করবেন। আপাতত তাঁরা ছোট আকারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক এবং জনসংযোগ করে প্রচার সারছেন।