সম্পূর্ণা চক্রবর্তী

বাইশ গজ থেকে রাজনীতির ময়দান। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন শিবশঙ্কর পাল। বাংলার ক্রীড়াজগতে যিনি 'ম্যাকো' নামে পরিচিত। এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ইনিংস শুরু করতে চলেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিধাননগর নির্বাচনের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তুফানগঞ্জ থেকে নির্বাচনে লড়বেন শিবশঙ্কর পাল। প্রথমবার রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন।

জন্মভিটে থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। এই লড়াইয়েও বজায় রাখতে চান স্পোটসম্যান স্পিরিট। এটাই নির্বাচনের মঞ্চে তাঁর মূল অস্ত্র। আজকাল ডট ইন-কে  দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিবশঙ্কর বলেন, 'আমি স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের মতো করেই দেখব। দিদি মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। আমি তৃণমূল স্তর থেকে কাজ শুরু করতে চাই।' 

মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ভাসতে শুরু করে। আচমকা রাজনীতির ময়দানে কেন? শিবশঙ্কর বলেন, 'শেষ দশ বছর ধরে কথা চলছিল। আগের নির্বাচনেও কথা হয়েছিল। তখন কোনও কারণে হয়নি। এবার হয়েছে।' রাজনীতিতে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। কীভাবে কাজ শুরু করবেন?

শিবশঙ্কর বলেন, 'সবার সঙ্গে আলাপ করা আমার প্রাথমিক লক্ষ্য। সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে চাই। ভোট চাইতে সবার কাছে যাব। নীচু স্তর থেকে শুরু করে। আমার জন্য কোনও বিভেদ নেই। সবাই মানুষ। যেকোনো পার্টি হোক না কেন, আমি সবার কাছে ভোট চাইব।' 

নির্বাচনী মঞ্চে নিজের মূলমন্ত্র জানিয়ে দিলেন ম্যাকো। যেভাবে এতদিন বাইশ গজে দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন, একইভাবে ভোটে লড়তে চান। জেতাতে চান দলকে।

শিবশঙ্কর বলেন, 'এতদিন যেভাবে বাংলাকে, ভারতকে হাতে বল নিয়ে ম্যাচ জেতাতাম, এখানেও সেটাই চেষ্টা করব। যেভাবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি, আমি নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করতে চাই। যেভাবে আমি ক্রিকেট জীবন শুরু করেছিলাম, নতুন ইনিংসও একইভাবে শুরু করতে চাই। ম্যাচ জিতে শুরু করতে চাই।'

বল হাতে ব্যাটারদের উইকেট ভাঙা, না হাত জোর করে ভোট প্রার্থনা করা? কোনটা বেশি কঠিন? শিবশঙ্কর বলেন, 'সবই কঠিন। কোনওটাই সহজ নয়। জীবনে কোনও সহজ জিনিস নেই। সবটাই চ্যালেঞ্জ। জীবনে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। বাঁচতে গেলে চ্যালেঞ্জ থাকে। আমি যেভাবে বাংলার হয়ে সততার সঙ্গে খেলেছি, একই সততার সঙ্গে এবার বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।' 

তুফানগঞ্জের মতো ছোট জায়গা থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ২০০৪-০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে বল হাতে। লড়াইটা মোটেই সহজ ছিল না। অনেক বাধা পেরিয়ে এই জায়গায় পৌঁছতে হয়েছে।

তাই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করতে চান প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার। শিবশঙ্কর বলেন, 'আমি তুফানগঞ্জের ছেলে। অনেক কাজ করতে চাই। অনেক ক্রীড়াবিদ গামগঞ্জ থেকে আসে। ওরা সুযোগ পায় না। আমি নিজে ভুক্তভুগী। আগের সরকার ক্রীড়াবিদদের এত সম্মান দেয়নি, এই সরকার যেমন দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। আমি চাই গ্রামগঞ্জের প্লেয়াররা উঠে আসুক। এটা আমার বড় দায়িত্ব। আমি নিজে একসময় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। বাকিরা যাতে একই সমস্যা মধ্যে দিয়ে না যায়, তার জন্য আমি ২০০ শতাংশ দেব।'

বাংলার ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে এসেছেন অনেকেই। তালিকায় আছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা, মনোজ তিওয়ারি, অশোক দিন্দা। কোনওভাবে তাঁদের থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন? ম্যাকোর এককথায় উত্তর, 'না'। তুফানগঞ্জের উঠতি ক্রীড়াবিদদের মঞ্চ তৈরি করে দেওয়ার তাগিদই তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসের প্রধান কারণ।