আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় এসে প্রচারের সময় ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। সেই ঘটনাই যেন এখন প্রতীক হয়ে উঠেছে এক গ্রামের উচ্ছ্বাসের। গতকাল সোমবার রাজ্যের নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই বিজেপির কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের মধ্যে জয়ের আনন্দে চারিদিক মুখর হয়ে ওঠে। 

 

সেই জয়ের আনন্দকে আরও অন্যভাবে উদযাপন করতে নদিয়ার রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের শঙ্করপুর গ্রামে দেখা গেল এক অভিনব চিত্র। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, আজকের দিনটি তাঁরা সম্পূর্ণভাবে ঝালমুড়ি খেয়ে উদযাপন করবেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রামে কার্যত রান্না বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রত্যেক বাড়িতে, পাড়ায়, মোড়ে সবখানেই চলছে ঝালমুড়ি খাওয়ার ধুম। 

 

ছোট থেকে বড়, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলে এই আনন্দে সামিল হয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু খাবার নয়, বরং জয়ের প্রতীক এবং নতুন আশার সূচনা। গ্রামের অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কষ্ট ও বঞ্চনার মধ্যে ছিলেন। “বুকের জ্বালা” আর “যন্ত্রণা” সহ্য করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই প্রতীক হিসেবেই তাঁরা নিজেদের পুরনো হাওয়াই চটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। 

 

তাঁদের বক্তব্য, “ছেঁড়া চটির অপবাদ আমরা অনেকদিন সহ্য করেছি, আর নয়।” এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চাইছেন। এখন তাঁদের দাবি, সময় বদলেছে আর হাওয়াই চটি নয়, এখন থেকে তাঁরা জুতো পরবেন, যা উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। “সকালবেলা জুতো পড়ব, রাতে খুলব” এই স্লোগান যেন তাদের নতুন জীবনের অঙ্গীকার। 

 

শুধু নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, গ্রামের মানুষ আশেপাশের সকলকেও ঝালমুড়ি খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে গোটা এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে এবং তা মানুষের কৌতূহলও বাড়িয়ে তুলেছে। সব মিলিয়ে, শঙ্করপুর গ্রামের এই উদ্যোগ শুধু একটি আনন্দ উদযাপন নয়, বরং তাঁদের আশা, বিশ্বাস ও পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।