বিভাস ভট্টাচার্য

কেন মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারী? বা ভালো করে বলতে গেলে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে লড়ার বিষয়ে যে 'ইমেজ' লাগে সেই ইমেজ বিজেপিতে কি শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া আর কারো কি নেই? যদি খোলাখুলি প্রশ্ন তোলা হয় তাহলে দেখা যাবে সত্যিই বিজেপিতে আর কারো নেই। কারণ, শুভেন্দু যেহেতু নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে গত বিধানসভা ভোটে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। এটাই একমাত্র কারণ। যদিও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর এই জয় নিয়েও বিতর্ক আছে। 

জল্পনা আগেই ছিল বা শুভেন্দু নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে দাঁড়াবেন। তবে সন্দেহও তৈরি হয়েছিল তিনি নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ালে শেষপর্যন্ত ভবানীপুর থেকে দাঁড়াবেন কি না। কিন্তু সোমবার বেলা শেষে দিল্লি থেকে বিজেপির যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেই তালিকায় যেখানে লোকের চোখ আটকে গিয়েছে সেটা হল বিজেপি এবার শুভেন্দুকে নন্দীগ্রাম ছাড়াও ভবানীপুর থেকে লড়াবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে এটা কি স্রেফ শুভেন্দুর নিজের ইচ্ছে না কি এর পিছনে রয়েছে বিজেপির অন্য কোনো উদ্দেশ্য? যদি তলিয়ে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে এর পিছনে বিজেপির উদ্দেশ্য হল মমতাকে যতটা সম্ভব তাঁর নিজের কেন্দ্রের মধ্যেই ব্যস্ত রাখা। কারণ এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট মমতা ব্যানার্জিকে দেখেই আসে। যে কথা অতি বড় তৃণমূল নেতাও অস্বীকার করতে পারবেন না। ফলে মমতাকে যদি ভবানীপুর কেন্দ্রে বেশি সময় দিতে হয় স্বাভাবিকভাবেই অন্য কেন্দ্রগুলোতে তিনি সেভাবে যেতে পারবেন না। যার ফায়দা তোলার চেষ্টা করবে বিজেপি। 

আর প্রার্থী যেহেতু শুভেন্দু সেখানে বারবার উঠে আসবে গত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভার প্রসঙ্গ। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের সর্বোচ্চ পদাধীকারী সেখানে অবশ্যই ঘাস ফুল শিবির এই কেন্দ্রে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। নিজের কেন্দ্রে জয় ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবেন এটাই বাস্তব। উল্টো দিক দিয়ে দেখলে এটাও দেখা যাবে শুভেন্দুও প্রমাণ করতে চাইবেন তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমার জোর। কিন্তু মনে রাখতে হবে নন্দীগ্রাম যতটা শুভেন্দুর কাছে পরিচিত ভবানীপুর কিন্তু ততটাই মমতার কাছে পরিচিত। কারণ, এখানে তিনি একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী তেমনি তিনি 'ঘরের মেয়ে'। ফলে 'ভূমিপুত্র' বা 'ঘরের ছেলে' ধরনের যে কথাগুলো ভোটের সময় প্রচার করা হয় সেই কথা কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর পক্ষে কাজে লাগলেও ভবানীপুরে কিন্তু লাগবে না। ফলে রাজনৈতিক লড়াই শেষপর্যন্ত কতটা হতে পারে সেই নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায়।