আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম দফা নির্বাচন শেষ হয়েছে। এর পরেই সাংবাদিক বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভোটের শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে তাঁকে। প্রথম দফা নির্বাচনের দিন সকালে তাঁর কালীঘাটে মন্দিরে পুজো দেওয়ার কর্মসূচি থাকলেও তা বাতিল করে নিউটাউনের হোটেল থেকে সরাসরি সল্টলেক সেক্টর ফাইভের বিজেপি দপ্তরে সকাল সাড়ে ১০টায় হাজির হয়ে যান। তারপর দুপুর ২টো পর্যন্ত বিজেপি দপ্তরেই থাকেন। যে জেলাগুলিতে নির্বাচন হচ্ছিল সেই জেলাগুলির গোটা পরিস্থিতি বিষয় খুঁটিনাটি জানতে চান। প্রথম দফার নির্বাচনের ২৪ ঘন্টা পর সাংবাদিক বৈঠক করেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চোখে-মুখে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস দেখা গেল। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রথম দফা নির্বাচন চলাকালীন তিনি কিছুটা হলেও চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘন্টা পর তাঁর চোখেমুখে আত্মবিশ্বাস দেখা গেল এবং তিনি বললেন, “ ১৫২টি আসনে ৯২.৮৮ শতাংশ ভোট নিশ্চিতরূপে বলে দিয়েছে দিদি যাচ্ছে। আর বিজেপি আসছে। ভয় যাচ্ছে, ভরসা আসতে চলেছে।”
দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে নির্বাচন। দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশের প্রথম দফায় নির্বাচন হলেও দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে নির্বাচন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে থাকবেন। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রয়োজনে তিনি ফের বঙ্গে আসতে পারেন। দলীয় সূত্রে খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবারের নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসের। কারণ তাঁরা মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও আরজি করের ঘটনাকে সামনে রেখে প্রচার করেছেন। এই ইস্যুগুলি যেমন রয়েছে, তার সঙ্গে এসআইআর ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলবে। এমনকি কখনও কখনও দেখা গিয়েছে বিজেপি বাঙালির আবেগ পেতেও মরিয়া।
যদিও এই ছবি নতুন নয় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব বাঙালির আবেগে শান দিয়েছে। তৃণমূল বারবার অভিযোগ করেছে বিজেপি বাঙালিবিরোধী, বাঙালির সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করছে তারা। সেই প্রমাণ দিতে এবার কখনও বিজেপির প্রার্থীদের দেখা গিয়েছে মাছের বাজারে, কখনও মাছ নিয়ে প্রচারে। আবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেও মাছ খেতে দেখা গিয়েছে।। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্র নেতৃত্বের মুখে বারবারই বাঙালি্র আবেগ বাঙালি সংস্কৃতি। এমনকি শেষ ১৫ দিন পশ্চিমবঙ্গে তাঁরা থেকেছেন বাঙালির আবেগকে বোঝার চেষ্টা করেছেন।। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁরা বলেছিলেন ২০০ পার হবে। কিন্তু সেই বার আসন সংখ্যা ২০১৬ থেকে বৃদ্ধি হলেও ৭৭ আসন গিয়ে থামতে হয়েছিল। তাঁরা আশাবাদী যে এবারও ২০২১ সালের থেকে বেশি আসন পাবে বিজেপি। এবার যেভাবে ভোটের হার বেড়েছে, তাতেই এত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বিজেপি।
এখন প্রশ্ন হল এই এসআইআর এফেক্টের জন্য মানুষের রায় বিজেপির পক্ষে ভোট যাবে না বিজেপির বিপক্ষে যাবে? কারণ তৃণমূল বারবার অভিযোগ করেছে, এসআইআরের জন্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। যদিও বিজেপি তার পাল্টা যুক্তি দেখিয়েছে। এবারের নির্বাচনে এসআইআর ইস্যু প্রথমের সামনে থাকলেও পরবর্তীতে ‘দুর্নীতি’ এবং ‘ভয় নয় ভরসা’ এই আশ্বাস দিয়েছে। এখন অপেক্ষা আগামী ৪ মে কী ফলাফল হয়? গণদেবতা ইতিমধ্যেই প্রথম দফার তাদের মতামত ভোট বাক্সে দিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোট বাকি। এবার কি পরিবর্তন হবে? নাকি চতুর্থ বার ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল সরকার। ফলাফলে দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহল












