আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৩ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পরে পশ্চিম গুয়াহাটি এখন মধ্য গুয়াহাটি কেন্দ্র। এই আসনটি এবার অসম গণ পরিষদকে ছাড়েনি বিজেপি। এই আসনেই লড়ছেন অসম জাতীয় পরিষদ (অজাপ)-এর তরুণ প্রার্থী কুঙ্কি চৌধুরী। কংগ্রেস আসনটি ছেড়েছে অজাপকে। মধ্য গুয়াহাটিতে একমাত্র অসমীয়া প্রার্থী তিনি। ২৭ বছর বয়সে কুঙ্কি ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন প্রচারে তাঁকে এমন এক নতুন প্রজন্মের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যারা ‘স্বচ্ছ, দক্ষ ও সহানুভূতিশীল শাসনের’ মাধ্যমে রাজনীতিতে জনগণের আস্থা পুনর্নির্মাণ করতে চায়।

২০২৩ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর গঠিত মধ্য গুয়াহাটি কেন্দ্রটি দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মূলত গুয়াহাটির প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি নিয়ে গঠিত এই এলাকাটি শহরের আর্থসামাজিক ছবিকে তুলে ধরে।

প্রধানত শহুরে ভোটারদের নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় হিন্দি, বাংলা এবং অসমীয়াভাষী বাসিন্দাদের মিশ্রণ দেখা যায়। এদের মধ্যে মধ্যবিত্ত পরিবার, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এখানকার সমস্যাগুলি মূলত শহুরে। পৌর পরিকাঠামো, যানজট, জল জমা, পানীয় জল, ব্যবসা করার সুবিধা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ইত্যাদি। এছাড়াও, এই কেন্দ্রে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি হওয়ায়, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবার মতো বিষয়গুলিতে প্রার্থীদের সক্ষমতা ভোটারদের পছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে।

কুঙ্কির নির্বাচনী কর্মসূচিতে এই বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছিল। তিনি উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা জলের মোকাবিলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উন্নততর নাগরিক পরিকাঠামো নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির উন্নয়ন, সরকারি স্কুলগুলির উন্নতি করা এবং কমিউনিটি গ্রন্থাগার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও করেছেন। তাঁর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নারীর নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট বিক্রয় অঞ্চলের মাধ্যমে হকারদের সহায়তা এবং বায়ুদূষণ হ্রাস ও শহরকে আরও সবুজ করে তোলার পদক্ষেপ।

নির্বাচনী প্রচারে কুঙ্কি চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক।

এই আসনে শক্তিশালী অবস্থান থাকা বিজেপি বিজয় কুমার গুপ্তকে প্রার্থী করেছে। তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপির সিদ্ধান্তকে এলাকার হিন্দিভাষী ভোটারদের একত্রিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেস কোনও প্রার্থী দেয়নি। এই আসনে কুঙ্কিই একমাত্র বিরোধী দলের মুখ। 

বড় জনসভার পরিবর্তে ছোট ছোট সভায় মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। বড় বড় নেতাদের দেখা গিয়েছে সেই সব সভায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নজরে পড়েছে। গত ২৮ মার্চ রোড শো করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে নজর কেড়েছেন কুঙ্কি। অন্যদিকে, অসমীয়ভাষী না হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বিজয়কে। ভাষা নিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে কুঙ্কিকেও।

রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মধ্য গুয়াহাটির পরিকাঠামোগত ঘাটতি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো সমস্যাগুলি জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী। সমালোচকদের মতে, শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাঁর সীমিত অভিজ্ঞতার জন্য ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

৯ এপ্রিল অসমের ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে। এনডিএ চেষ্টা করবে যারা টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার। বিরোধী জোট ২০১৬ সালের পর ফের ক্ষমতায় আসবে কি না তার পরীক্ষা। এই বছর নির্বাচনে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নজর থাকবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ, এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল এবং রায়জোর দল নেতা অখিল গগৈয়ের উপর।