আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ দিন ভারতের রাজনীতিতে। ৯ এপ্রিল দু’টি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটগ্রহণ। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে প্রায় এক মাস। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই প্রকাশিত হবে ফল। অসম, কেরল ও পুদুচেরির নির্বাচনে নজর থাকবে সকলের। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য লড়বে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপুল সংখ্যক ভোটকর্মী মোতায়েন এবং কড়া নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্নাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় উপনির্বাচনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে গোয়ায় একটি উপনির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬
৯ এপ্রিল অসমের ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে। এনডিএ চেষ্টা করবে যারা টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার। বিরোধী জোট ২০১৬ সালের পর ফের ক্ষমতায় আসবে কি না তার পরীক্ষা।
এই বছর নির্বাচনে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নজর থাকবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ, এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল এবং রায়জোর দল নেতা অখিল গগৈয়ের উপর। ৩১,৪৯০টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ২.৫ কোটি ভোটার তাঁদের মতদান করবেন। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সব ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন-সহ ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কেরল বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬
কেরলে ১৪০টি আসনের সব ক’টিতেই এক দফায় ভোটগ্রহণ হবে। মোট ৮৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং ২.৭ কোটিরও বেশি ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। মূল লড়াই শাসকদল সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার জন্য লড়াই করবেন। অন্যদিকে, ইউডিএফ পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার আশা করছে।
৩০ হাজারেও বেশি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬
পুদুচেরিতে ৩০টি বিধানসভা আসনের সব ক’টিতেই ভোটগ্রহণ হবে। মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী-সহ মোট ২৯৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সর্বভারতীয় এন আর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন শাসক এনডিএ জোট কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের মুখোমুখি হবে। প্রায় ৯.৫ লক্ষ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কড়া নজরদারিতে এক হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র ভোটগ্রহণ হবে।
অন্যান্য রাজ্যে উপনির্বাচন
কর্ণাটকে, বর্তমান বিধায়কদের মৃত্যুর কারণে দাভাঙ্গেরে দক্ষিণ এবং বাগলকোট আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে। শাসকদল কংগ্রেস দাভাঙ্গেরে দক্ষিণে শামনুর শিবশঙ্করপ্পার নাতি এবং কর্ণাটকের মন্ত্রী এস এস মল্লিকার্জুনের ছেলে সমর্থ শামনুরকে এবং বাগলকোটে উমেশ মেতিকে প্রার্থী করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বি বিজেপির প্রার্থী টি দাসকারিয়াপ্পা এবং বীরভদ্রায় চরণতিমঠ।
নাগাল্যান্ডের কোরিদাং আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন বর্তমান বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুর কারণে এই উপনির্বাচন।
ত্রিপুরায়, ধর্মনগর আসনে বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে। বর্তমান বিধায়ক ও বিধানসভার স্পিকারের মৃত্যুর কারণে এই উপনির্বাচন।
গোয়া উপনির্বাচন বাতিল
বিধানসভার মেয়াদের এক বছরের কম সময় বাকি। এত অল্প সময়ের জন্য উপনির্বাচন করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছে বম্বে হাই কোর্ট।
















