আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ খুব শীঘ্রই নিয়ে আসছে বহু প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার। এতদিন পর্যন্ত নতুন কারও সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে হলে ফোন নম্বর শেয়ার করাই ছিল একমাত্র উপায়। কিন্তু নতুন এই ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীরা একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেম ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন। ফলে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর গোপন রেখেও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তবে এই নতুন সুবিধাকে ঘিরে যেমন উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তেমনই গোপনীয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে মোবাইল নম্বর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই, সরকারি পরিষেবা এবং বিভিন্ন আর্থিক নথির সঙ্গে যুক্ত। তাই অপরিচিত ব্যক্তির কাছে নিজের ফোন নম্বর দেওয়া মানে অনেক সময় অজান্তেই সংবেদনশীল তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে দেওয়া। এতদিন কোনও নতুন সহকর্মী, আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী, অনলাইন বিক্রেতা বা কোনও গ্রুপে যোগ দেওয়ার সময় বাধ্য হয়েই ফোন নম্বর শেয়ার করতে হতো। নতুন ইউজারনেম ফিচার চালু হলে সেই প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফিচারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা। ব্যবহারকারীরা চাইলে শুধু নিজের ইউজারনেম জানিয়েই যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে ফোন নম্বর গোপন থাকবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকিও কিছুটা কমবে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, অনলাইন কেনাবেচা, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষা বা নতুন পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সুবিধা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
তবে সুবিধার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও সামনে এসেছে। অনেকের আশঙ্কা, ইউজারনেম ব্যবহার করে প্রতারকরা ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে সহজেই সাধারণ মানুষকে টার্গেট করতে পারে। জনপ্রিয় ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়ো ইউজারনেম তৈরি করে প্রতারণার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুন ফিচারটি চালু হওয়ার আগে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই বিষয়টি ভারতের সরকারি মহলেরও নজরে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার চালু হওয়ার আগে বা চালুর সময় সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ, পরিচয় চুরি এবং অনলাইন প্রতারণা রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে মেটার কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এই ফিচারটি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বাড়াবে, তবুও শুরুতেই সবাই এটি ব্যবহার করবেন, এমনটা নিশ্চিত নয়। প্রথমদিকে যাঁদের ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখা জরুরি—যেমন ব্যবসায়ী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার বা পেশাদারদের মধ্যেই এই ফিচারের ব্যবহার বেশি দেখা যেতে পারে। পরে ধীরে ধীরে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও এটি গ্রহণ করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে। এটি যেমন ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখার সুযোগ দেবে, তেমনই সাইবার নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আনতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মেটা কীভাবে এই নতুন ফিচারে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ভারসাম্য বজায় রেখে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারে।















