ডিজিটাল পেমেন্ট ও অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার জালিয়াতির ঘটনাও। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
2
11
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা কমানো, ব্যাঙ্কগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানো এবং দ্রুত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
3
11
নতুন নিয়মগুলি ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকর হবে। এতদিনের নিয়ম মূলত অনুমতি ছাড়া হওয়া ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু সংশোধিত নির্দেশিকায় নামে একটি নতুন বিভাগ যুক্ত হয়েছে।
4
11
এর আওতায় শুধু অনুমতি ছাড়া হওয়া লেনদেনই নয়, প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
5
11
আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি প্রতারণার জন্য ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি দায়ী হয়, তাহলে গ্রাহকের শূন্য দায় থাকবে। যেমন—ব্যাঙ্ক যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে না রাখে, বাধ্যতামূলক এসএমএস বা ই-মেল সতর্কবার্তা না পাঠায়, ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা না রাখে অথবা অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে গ্রাহককে কোনও আর্থিক ক্ষতি বহন করতে হবে না।
6
11
এছাড়া যদি কোনও তৃতীয় পক্ষের, যেমন পেমেন্ট গেটওয়ে, টেলিকম সংস্থা বা থার্ড-পার্টি অ্যাপের কারণে প্রতারণা ঘটে এবং গ্রাহক পাঁচ দিনের মধ্যে ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানান, তাহলেও শূন্য দায়ের সুবিধা মিলবে।
7
11
তবে গ্রাহকের নিজের অবহেলার কারণে প্রতারণা ঘটলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হবে। ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করা, ব্যাঙ্কের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা, ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করা অথবা মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের তথ্য ব্যাঙ্ককে না জানানোকে গ্রাহকের অবহেলা হিসেবে ধরা হবে।
8
11
এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা একক মালিকানাধীন ব্যবসায়ী যদি গ্রাহকের অবহেলার কারণে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হন, তাহলে তিনি নেট ক্ষতির ৮৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫,০০০—যেটি কম হবে, সেই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে এই সুবিধা জীবনে মাত্র একবার পাওয়া যাবে।
9
11
এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য শুধু ব্যাঙ্কে অভিযোগ করলেই হবে না। প্রতারণার পাঁচ দিনের মধ্যে জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টাল অথবা ১৯৩০ হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানো বাধ্যতামূলক।
10
11
আরবিআই আরও নির্দেশ দিয়েছে, অভিযোগ সঠিক বলে নিশ্চিত হলে ব্যাঙ্ককে আবেদনপত্র দিয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতারণার ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক প্রতারণার ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।
11
11
এছাড়াও নতুন নিয়মে ব্যাঙ্কগুলিকে ৫০০-এর বেশি প্রতিটি ডিজিটাল লেনদেনের জন্য তাৎক্ষণিক এসএমএস সতর্কবার্তা পাঠানো, ই-মেল নিবন্ধিত থাকলে ই-মেল পাঠানো এবং ২৪x৭ প্রতারণা রিপোর্ট করার ব্যবস্থা চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংকে আরও নিরাপদ করা এবং প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের দ্রুত আর্থিক সুরাহা দেওয়াই আরবিআই-র নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।