আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও ভারতীয় বাজারে সেই প্রভাব এখনও কেনাকাটায় পড়েনি। বরং পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। সাম্প্রতিক সময়ে সোনার চাহিদা ৭০ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, দুর্বল ক্রেতা মনোভাব এবং ভবিষ্যতে দাম আরও কমতে পারে—এই আশঙ্কাই বাজারে চাহিদা কমার অন্যতম কারণ।
চলতি বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল সোনার দাম। কিন্তু এরপর থেকে বাজারে বড় সংশোধন দেখা যায়। বর্তমানে এমসিএক্স প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতার তুলনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
দাম কমলেও নতুন করে সোনা কেনার বদলে বহু মানুষ এখন পুরনো গয়না বিক্রি করছেন। এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে পুরনো সোনা বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৫০ টনে পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বেশি। অনেকেই মনে করছেন, যদি ভবিষ্যতে দাম আরও কমে, তাহলে এখনই পুরনো সোনা বিক্রি করাই লাভজনক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র দাম কমেছে বলেই একসঙ্গে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা উচিত নয়। সোনার বাজার এখনও অস্থির। আগামী দিনে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর অনেকটাই নির্ভর করবে সোনার দামের ভবিষ্যৎ।
অনেক বিনিয়োগকারী এখনও অপেক্ষা করছেন দাম আরও কিছুটা কমার আশায়। ফলে বাজারে নতুন ক্রেতার সংখ্যা কমে গিয়েছে। অন্যদিকে, যাঁদের কাছে আগে থেকেই সোনা রয়েছে, তাঁদের অনেকেই এই সুযোগে পুরনো গয়না বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করছেন।
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তবে একবারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে বাজারের ওঠানামার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়।
এছাড়াও, সোনা কেনার আগে শুধুমাত্র দামের দিকে না তাকিয়ে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের সময়সীমা বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ সোনা মূলত সম্পদ সুরক্ষার একটি মাধ্যম, দ্রুত লাভের নিশ্চয়তা নয়।
সব মিলিয়ে, সোনার দাম আগের তুলনায় অনেকটাই কমলেও বাজারে এখনও সেই অর্থে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে না। বরং অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই অপেক্ষা করছেন বা পুরনো সোনা বিক্রি করছেন। আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সুদের হারের সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে সোনার বাজার কোন দিকে এগোবে।















