আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্মচারী ভবিষ্যনিধি গ্রাহকদের জন্য বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে ইপিএফ স্কিম ২০২৬। কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি নতুন এই প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা ২০২৬ সালের ২৯ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ইপিএফ স্কিম ১৯৫২ পরিবর্তে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা বিধি, ২০২০ আওতায় আনা এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল কর্মীদের আর্থিক প্রয়োজনে আরও নমনীয়তা দেওয়া, পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয়ও সুরক্ষিত রাখা।


নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পিএফ সদস্যরা আগের মতোই নির্দিষ্ট প্রয়োজনে পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে আংশিক টাকা তুলতে পারবেন। তবে এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ হয়েছে। প্রত্যেক সদস্যকে নিজের অ্যাকাউন্টে যোগ্য সদস্য ব্যালেন্সের অন্তত ২৫ শতাংশ জমা রাখতেই হবে। অর্থাৎ, আংশিক টাকা তোলার আগে এই ন্যূনতম অর্থ সংরক্ষিত থাকবে এবং সেই অংশে হাত দেওয়া যাবে না।


ধরা যাক, কোনও সদস্যের পিএফ অ্যাকাউন্টে যোগ্য ব্যালেন্স হিসেবে ১ লক্ষ টাকা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অন্তত ২৫ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে রেখে দিতে হবে। অর্থাৎ বাকি অংশ থেকেই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী টাকা তোলার অনুমতি মিলবে। এই ২৫ শতাংশ সংরক্ষিত ব্যালেন্সের নিয়ম কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা—উভয়ের অবদানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।


নতুন ইপিএফ স্কিম ২০২৬ বাড়ি সংক্রান্ত প্রয়োজনে অর্থ তোলার সুযোগও আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সদস্যরা বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা, বাড়ি তৈরির জন্য জমি কেনা, নতুন বাড়ি নির্মাণ, হোম লোন পরিশোধ, কিংবা বাড়ির সংস্কার ও মেরামতের মতো কাজে পিএফের টাকা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট যোগ্যতা, পরিষেবার মেয়াদ এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে।


এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল, কোনও কর্মী যদি চাকরি ছাড়ার পর ১২ মাসের পরিষেবা সম্পূর্ণ করার আগেই কর্মহীন হয়ে পড়েন, তাহলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আংশিক টাকা তোলার সুযোগ পাবেন। এর ফলে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে কর্মীদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য হল একদিকে সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে অবসরের জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চয় অক্ষুণ্ণ রাখা। অতীতে অনেকেই সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ অর্থ তুলে ফেলায় অবসরকালীন সঞ্চয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। নতুন ২৫ শতাংশ ন্যূনতম ব্যালেন্সের নিয়ম সেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।


সব মিলিয়ে, কর্মচারীদের জন্য আরও আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো নিয়ে এসেছে। আংশিক অর্থ তোলার ক্ষেত্রে এখন থেকে সদস্যদের নতুন শর্তগুলি ভালোভাবে বুঝে আবেদন করতে হবে। বিশেষ করে ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় রাখা, নির্ধারিত উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যবহার এবং যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইপিএফও সদস্যদের নতুন নিয়মগুলি জেনে তবেই ভবিষ্যনিধির অর্থ তোলার পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।

&t=1s