ভারতে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ দুটোই দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ে তোলার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে মিউচুয়াল ফান্ড।
2
13
তবে কোনও ফান্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে বলেই সেটি সবসময় সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দেবে—এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। ফান্ডের দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স, ঝুঁকি এবং বিনিয়োগ কৌশল বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
3
13
বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় মিউচুয়াল ফান্ড হল পরাগ ফ্লেক্সি ক্যাপ ফান্ড। এই ফান্ডের পরিচালনাধীন সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৪১ লক্ষ কোটি। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার জোরেই এই ফান্ড দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে।
4
13
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এইচডিএফসি ব্যালেন্সড অ্যাডভান্টেজ ফান্ড যার এইউএম প্রায় ১.০৪ লক্ষ কোটি। এই ধরনের ফান্ড সাধারণত ইকুইটি এবং ঋণপত্রে ভারসাম্য রেখে বিনিয়োগ করে, ফলে বাজারে অস্থিরতার সময় তুলনামূলকভাবে ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে।
5
13
তৃতীয় স্থানে রয়েছে এইচডিএফসি ফ্লেক্সি ক্যাপ ফান্ড যার পরিচালনাধীন সম্পদের পরিমাণ ১.০১ লক্ষ কোটি-এরও বেশি। বড়, মাঝারি এবং ছোট—তিন ধরনের সংস্থায় বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় এই ফান্ডও বিনিয়োগকারীদের কাছে জনপ্রিয়।
6
13
চতুর্থ স্থানে রয়েছে এইচডিএফসি মিড ক্যাপ ফান্ড যার এইউএম প্রায় ৯৭,৩৫০ কোটি। এই ফান্ড মূলত মাঝারি আকারের সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ করে। দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রিটার্নের সম্ভাবনা থাকলেও এই ধরনের ফান্ডে ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
7
13
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে আইসিআইসিআই মাল্টি অ্যাসেট ফান্ড যার এইউএম প্রায় ৮৪,১৬৫ কোটি। এই ফান্ডে ইকুইটি, ঋণপত্র এবং সোনাসহ একাধিক সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগ করা হয়, ফলে পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আসে।
8
13
বিশেষজ্ঞদের মতে, এইউএম বেশি হওয়া মানে সাধারণত সেই ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আস্থা রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ধারাবাহিক বিনিয়োগ হয়েছে।
9
13
তবে শুধুমাত্র বড় এইউএমকে ভাল ফান্ডের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ধরা উচিত নয়। কারণ একটি বড় ফান্ডের তুলনায় ছোট এইউএম সম্পন্ন কোনও ফান্ডও অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্ন দিতে পারে।
10
13
বিনিয়োগের আগে অবশ্যই ফান্ডের ১ বছর, ৩ বছর এবং ৫ বছরের রিটার্ন, ফান্ড ম্যানেজারের অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ কৌশল, ঝুঁকির মাত্রা এবং রেশিও ভালভাবে যাচাই করা উচিত।
11
13
পাশাপাশি নিজের আর্থিক লক্ষ্য, বিনিয়োগের সময়কাল এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার সঙ্গে ফান্ডটি কতটা মানানসই, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।
12
13
আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে, শুধুমাত্র অতীতের রিটার্ন দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বাজারের পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, তাই ভবিষ্যতের রিটার্নও ভিন্ন হতে পারে। সঠিক গবেষণা, বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিই সফল মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগের মূল চাবিকাঠি।
13
13
সব মিলিয়ে, ভারতের শীর্ষ পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনাধীন সম্পদের নিরিখে বিশাল হলেও, বিনিয়োগের আগে শুধু এইউএম নয়, বরং সামগ্রিক পারফরম্যান্স ও ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাহলেই দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির পথে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।