আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধরুন আপনি ভারতীয় ১০০ টাকা বদলে নিলেন আমেরিকান ডলারে। তাহলে মেরেকেটে হাতে পাবেন এক ডলার বা ১.২ ডলার পর্যন্ত। কাগজে কলমে খুব একটা খারাপ দেখায় না সংখ্যাটা। না! কিন্তু যখন সত্যি সত্যি আমেরিকায় খরচ করতে যাবেন তখনই দেখবেন ভোঁভা। বিশ্বের পশ্চিমপ্রান্তে, ১০০ টাকায় সিঁকে ছেঁড়ে না বিশেষ। 

আপনার পকেটে যদি একটি মাত্র ডলার থেকে থাকে তাহলে আমেরিকায় খুবই সামান্য কিছু কিনতে পারবেন। যেমন ধরুন এক বোতল জল কিনলেন, কিম্বা একটা লজেন্স বা হয়ত একটা ছোট আপেল। ওই অবধিই। এক কাপ কফিও যদি কিনতে চান দেখবেন অন্তত পক্ষে দুই বা তিন ডলার খরচ হচ্ছে আপনার। 

ভারতের ক্ষেত্রে অবস্থাটা একটু অন্যরকম। পকেটে ১০০ টাকা থাকলে রাজা মনে না হলেও, অন্তত অটো ভাড়া, বা রাস্তার ধারের দোকান থেকে কিছু তেলে ভাজা কিনে খেতে পারবেন। ঘরে ফেরার পথে কয়েক প্যাকেট বিস্কুট বা চায়ের কয়েকটা ডিব্বা নিয়ে যেতে পারবেন। মাস কাবারির বাজার না হলেও, চায়ের যোগানে ১০০ টাকা হপ্তা কাবার করে দেবে। 

আমেরিকায় জিনিসপত্রের দাম বেশি। খাবার থেকে শুরু করে সবকিছুরই দাম আকাশছোঁয়া। তার কারণ পশ্চিমে মানুষের শ্রমের দামও বেশি। বাড়ি ভাড়ার পাশাপাশি রোজনামচার ব্যবহারিক জিনিসপত্রের দামও ভারতের খরচের চেয়ে বেশি। এইখানেই ‘ক্রয় ক্ষমতা’র ধারণা উঠে আসে সামনে। 

ক্রয় ক্ষমতা আসলে বোঝায়, আপনার টাকা আপনি কতখানি কাজে লাগাতে পারছেন। ভারতের ১০০ টাকার সমতুল্য মার্কিন ডলার আসলে অতখানিও শক্তিশালী নয়। ফলে, যতই ১০০ টাকায় প্রায় ১.২ ডলারই দিক না কেন, খরচ করতে গেলে আসল চিত্রটি বদলে যায়। 

আমেরিকার কোথায় আপনি অর্থ ব্যয় করছেন তার উপরেও কিছুটা নির্ভর করে ক্রয় ক্ষমতা। মানে বড় শহরগুলিতে যেমন নিউ ইয়র্ক কিম্বা সান ফ্রান্সিস্কোতে গিয়ে এক ডলার খরচ করতে গেলে লজেন্স চুষে ঘরে ফিরতে হবে। সেক্ষেত্রে ছোট শহর বা মফঃস্বলগুলিতে হয়ত একটু বেশি কিছু হতে পারে। তবে খুব বেশি ফারাক হবে না। 

কাজেই, আদপে হিসেবটা খুবই সহজ। ১০০ টাকায় তবুও কিছুটা ঠ্যাকনা দেওয়া যায় পকেটে। কিন্তু সেই একই পরিমাণ ডলারে বদলে গেলে পকেটে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াতে হবে।