আজকাল ওয়েবডেস্ক:  জুন মাসের মাঝামাঝি সময়টি করদাতা, চাকরিজীবী এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ জুন ২০২৬-কে ঘিরে একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক সময়সীমা একসঙ্গে এসে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনে স্মারকলিপি বা দাবি জমা দেওয়ার শেষ সুযোগ, ফর্ম ১৬ ইস্যুর নির্ধারিত সময় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির অগ্রিম কর জমা দেওয়ার শেষ দিন।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, ইউনিয়ন ও স্টেকহোল্ডারদের দাবি বা স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা ১৫ জুন ২০২৬। এর আগে একাধিকবার এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। প্রথমে ৩০ এপ্রিল, পরে ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হলেও শেষ পর্যন্ত ১৫ জুনকে চূড়ান্ত ডেডলাইন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।


বেতন কমিশনের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১৫ জুনের পরে আর কোনও আবেদন বা স্মারকলিপি গ্রহণ করা হবে না এবং সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। ফলে যেসব সংগঠন বা কর্মচারী প্রতিনিধি এখনও নিজেদের প্রস্তাব জমা দেননি, তাঁদের হাতে আর খুব বেশি সময় নেই।


অন্যদিকে, বেসরকারি ও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ফর্ম ১৬ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মীদের হাতে তুলে দিতে হবে। এই নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতনের উপর টিডিএস-র সম্পূর্ণ বিবরণ থাকে, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্ম ১৬ হাতে পাওয়ার পরই অধিকাংশ চাকরিজীবী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি শুরু করেন। কারণ, ৩১ জুলাই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সম্ভাব্য শেষ তারিখ পর্যন্ত আর প্রায় দেড় মাসেরও কম সময় বাকি রয়েছে।


তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথাও জানানো হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ করবর্ষ ফর্ম ১৬   পরিবর্তে নতুন নম্বর ফর্ম ১৩০ চালু হয়েছে। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য আগের নিয়মেই ফর্ম ১৬ ইস্যু করা হবে। ফলে চলতি রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতাদের বিভ্রান্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই।


এছাড়াও, ১৫ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম অগ্রিম কর জমা দেওয়ারও শেষ দিন। যাঁদের বেতনের বাইরে ব্যবসা, পেশা, ভাড়া, সুদ, মূলধনী লাভ বা অন্যান্য উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে এবং নির্ধারিত সীমার বেশি কর প্রযোজ্য, তাঁদের জন্য অগ্রিম কর প্রদান বাধ্যতামূলক।


ভারতের কর ব্যবস্থায় অগ্রিম কর চারটি কিস্তিতে জমা দিতে হয়। এর উদ্দেশ্য হল, আর্থিক বছরের শেষে একসঙ্গে কর পরিশোধের চাপ কমানো এবং কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। নির্ধারিত সময়ে অগ্রিম কর জমা না দিলে সুদ ও অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

 


সব মিলিয়ে, ১৫ জুন করদাতা, চাকরিজীবী এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। অষ্টম বেতন কমিশনে দাবি জমা দেওয়া, ফর্ম ১৬ সংগ্রহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে ভবিষ্যতে কোনও প্রশাসনিক বা আর্থিক জটিলতার সম্মুখীন হতে না হয়।