আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী প্রতিনিধি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে স্মারকলিপি আহ্বান করেছে। এরই মধ্যে অন্তত তিনটি বড় কর্মচারী সংগঠন বেতন কাঠামো, পে ম্যাট্রিক্স এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।


এই দাবিগুলির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব এসেছে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে। সংগঠনটি দাবি করেছে, অষ্টম বেতন কমিশনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ৫২,৬০০ করা হোক। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি।


অন্যদিকে, রেলওয়ে সিনিয়র সিটিজেন্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নির্দিষ্ট কোনও অঙ্কের প্রস্তাব না দিলেও জানিয়েছে, ন্যূনতম বেতন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ধারণ করতে হবে। তাদের বক্তব্য, ১ জানুয়ারি ২০২৬-কে ভিত্তি ধরে মূল্যসূচক অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের বাস্তব চাহিদা যেমন আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের খরচ এবং ডিজিটাল সংযোগের ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।


ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়েও তারা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। সংগঠনটির মতে, বিশেষ করে ভারতীয় রেলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদগুলির জন্য উচ্চতর ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা উচিত। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, লেভেল-১ কর্মীদের জন্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৯২ রাখা যেতে পারে। লেভেল-৬, ৭ এবং ৮-এর কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার বাড়িয়ে ৩.৫০ এবং লেভেল-৯ থেকে ১২ পর্যন্ত মধ্যম স্তরের পদগুলির জন্য ৩.৮০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতীয় রেলওয়ে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতাধীন কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা এবং মহার্ঘ ত্রাণ ২ শতাংশ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিএ ও ডিআর হার ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশ হয়েছে। এর সুবিধা পেয়েছেন লক্ষ লক্ষ কর্মচারী, পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী এবং অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীরা।


ভারতীয় রেলওয়ে দেশের অন্যতম বৃহত্তম সরকারি নিয়োগকারী সংস্থা হওয়ায়, রেল কর্মচারী সংগঠনগুলির সুপারিশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাবগুলি অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

 


বর্তমানে কমিশন বিভিন্ন সংগঠনের মতামত ও তথ্য বিশ্লেষণ করছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বেতন কাঠামো, পেনশন, ভাতা এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। জানা গিয়েছে, অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারে। এরপর কেন্দ্র সরকার সেই সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আগামী কয়েক মাস কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।