আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছর ভারতে তাপপ্রবাহ আগেভাগেই এবং অনেক বেশি তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে। দেশের একাধিক অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৫–৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলেছে। আইএমডি ইতিমধ্যেই এল নিনো-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। এই চরম গরম শুধু আবহাওয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই—এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি অর্থনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে।


প্রথম ধাক্কা এসেছে বিদ্যুৎ খাতে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হু হু করে বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিক পাওয়ার ডিমান্ড ইতিমধ্যেই ২৫০–২৫৬ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা সাধারণত গ্রীষ্মের চূড়ান্ত সময়ে দেখা যায়। বাড়ি, অফিস এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এয়ার কন্ডিশনার, কুলার এবং ফ্রিজের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের খরচও বাড়ছে।


চাহিদা দ্রুত বাড়লেও সরবরাহ সেই হারে না বাড়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের উপরই পড়ছে—বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল এবং ট্যারিফ। ফলে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাসিক খরচও।


দ্বিতীয় বড় প্রভাব পড়ছে কৃষিক্ষেত্রে। অতিরিক্ত গরম ফসলের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২২ সালের তাপপ্রবাহে গম উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা এখনও স্মরণীয়, যার ফলে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়েছিল। গবেষণায়ও দেখা গেছে, চরম তাপমাত্রা ফসলের উৎপাদন কমায় এবং খাদ্যদামের অস্থিরতা বাড়ায়।


বিশেষ করে ফল, সবজি এবং দুধজাত পণ্যের মতো দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। গরমে এই পণ্যগুলির সংরক্ষণক্ষমতা কমে যায়, দ্রুত পচে যায় এবং বাজারে সরবরাহ কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে শুধু এই পণ্যই নয়, শস্য উৎপাদন এবং জল সরবরাহও চাপে পড়ে, যা সামগ্রিক খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেয়।


তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়ছে পরিবহণ ও লজিস্টিক্স খাতেও। ঠান্ডা রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, পরিবহণের গতি কমছে এবং পচনশীল পণ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।


এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে শ্রম উৎপাদনশীলতার হ্রাস। নির্মাণ, উৎপাদন এবং পরিবহণের মতো খাতে প্রচণ্ড গরমে কাজের সময় কমে যায় এবং কর্মক্ষমতা কমে। 
ফলে একদিকে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে চাহিদা একই থাকছে বা বাড়ছে। এই ভারসাম্যহীনতার ফলে বাজারে দামের উপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

&t=26s
সব মিলিয়ে, তাপপ্রবাহ এখন শুধু আবহাওয়ার সমস্যা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ, খাদ্য, পরিবহণ এবং শ্রম—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। এই সম্মিলিত চাপই সাধারণ মানুষের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।