আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের আর্থিক বাজারকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি সেবি-কে ‘একক ও ইউনিফাইড কেওয়াইসি’ চালুর জন্য নেতৃত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সেবির ৩৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন আর্থিক খাতে ছড়িয়ে থাকা আলাদা আলাদা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সরল ও ডিজিটাল করা এখন সময়ের দাবি।
অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে ব্যাঙ্ক, মিউচুয়াল ফান্ড, ব্রোকারেজসহ নানা ক্ষেত্রে আলাদা কেওয়াইসি করতে হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই একটি সাধারণ, সুরক্ষিত এবং সাশ্রয়ী কেওয়াইসি কাঠামো তৈরি করা জরুরি, যা গোটা আর্থিক ব্যবস্থায় সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তিনি জানান, এই সংস্কার বহুদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবায়ন এখনও বাকি।
সীতারামন বলেন, সেবি-র প্রযুক্তিগত ক্ষমতা, ডিজিটাল কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা এই বড় পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত ভিত্তি তৈরি করে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের এমন একটি কেওয়াইসি ব্যবস্থা দরকার যা নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ এবং সবার জন্য সহজলভ্য।”
এই উদ্যোগের পেছনে একটি বড় কারণ হল শেয়ারবাজারে খুচরো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কিন্তু কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং পুনরাবৃত্তি তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একটি কেওয়াইসি চালু হলে অ্যাকাউন্ট খোলা এবং বিনিয়োগের প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও, অর্থমন্ত্রী বাজারে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও কঠোর করার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাজারের অংশগ্রহণকারীদের বুঝতে হবে, কোনো অনিয়ম হলে তা শুধু তদন্তই নয়, দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
খুচরো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা বা সীমিত জ্ঞানের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর প্রচার করা হয়। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা কখনও ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। একইসঙ্গে তিনি দায়িত্বশীল আর্থিক শিক্ষার জন্য উপযুক্ত কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সেবি-কে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সীতারামন। তিনি বলেন, বিশ্বের নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর আলোচনা জরুরি, বিশেষ করে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, টেকসই অর্থায়ন এবং সিস্টেমের আন্তঃসংযোগের মতো উদীয়মান ঝুঁকির ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে, একটি কেওয়াইসি চালুর প্রস্তাব ভারতীয় আর্থিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।















