আজকাল ওয়েবডেস্ক: অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই দিক থেকে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF) বহু বছর ধরেই অন্যতম জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ পদ্ধতি হয়ে আছে। মাত্র ৫০০ থেকে শুরু করে বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় চাকরিজীবী থেকে শুরু করে স্বনিযুক্ত সকল বিনিয়োগকারীর মধ্যেই পিপিএফ জনপ্রিয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা—সুদ, জমা ও ম্যাচুরিটি—সবই পুরোপুরি ট্যাক্স-ফ্রি, যা একে আরও লাভজনক করে তোলে।


১৯৬৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল সেভিংস ইনস্টিটিউট পিপিএফ চালু করে, ছোট সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের কর সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। পিপিএফ অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ১৫ বছর, তবে চাইলে ৫ বছরের ব্লকে একে বাড়ানো যায়। প্রথম ১৫ বছর শেষে দুইবার বাড়ালে মোট মেয়াদ দাঁড়ায় ২৫ বছর। নিয়মিত বিনিয়োগ করলে এই ২৫ বছরে সহজেই গড়ে ওঠে ১ কোটি টাকার রিটায়ারমেন্ট ফান্ড।


এই মুহূর্তে পিপিএফে সুদের হার ৭.১%, যা বছরে একবার হিসাব করা হয় এবং প্রতি তিন মাসে সরকার সুদের হার পুনর্বিবেচনা করে। সরকারি স্কিম হওয়ায় পিপিএফ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। সুদের পরিমাণ বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিলেই পুরো ১.৫ লাখ জমা দিতে, যাতে পুরো বছরের জন্য সুদ পাওয়া যায়।


কীভাবে বাড়ে আপনার টাকা?
যদি আপনি প্রতি বছর ১ এপ্রিল ১,৫০,০০০ জমা দেন, তাহলে বর্তমান সুদের হারে প্রথম বছরে সুদ পাবেন ১০,৬৫০। দ্বিতীয় বছরের শুরুতে মোট ব্যালেন্স দাঁড়ায় ১,৬০,৬৫০। এরপর আবার ১.৫ লাখ জমা দিলে দ্বিতীয় বছরের মোট ব্যালেন্স হয় ৩,১০,৬৫০। এই পরিমাণের ওপর বছরের শেষে সুদ হবে ২২,০৫৬।


এভাবে ১৫ বছর ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করলে—
মোট বিনিয়োগ: ২২.৫০ লাখ
মোট সুদ: ৪০.৬৮ লাখ
ম্যাচুরিটি: ৬৩.১৮ লাখ
অর্থাৎ, বিনিয়োগের তুলনায় সুদই আপনাকে বেশি আয় করায়।
মেয়াদ ৫ বছর বাড়ালে লাভ আরও বাড়ে


প্রথম ১৫ বছরের পর যদি আপনি পিপিএফ আরও ৫ বছর বাড়ান, তাহলে—
মোট বিনিয়োগ: ৩০ লাখ
মোট সুদ: ৩৬.৫৮ লাখ
মোট মূল্য: ৬৬.৫৮ লাখ
২৫ বছর শেষে ১ কোটি টাকা


আরও একটি ৫ বছরের ব্লক বাড়ালে মোট মেয়াদ হয় ২৫ বছর, যেখানে—
মোট বিনিয়োগ: ৩৭.৫০ লাখ
মোট সুদ: ৬৫.৫৮ লাখ
ম্যাচুরিটি: ১.০৩ কোটি
অর্থাৎ, নিয়মিত ছোট সঞ্চয়েই ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে পারে ১ কোটি টাকার নিরাপদ রিটায়ারমেন্ট ফান্ড—কোনো ঝুঁকি ছাড়াই, সম্পূর্ণ করমুক্তভাবে।


পিপিএফ তার নিরাপত্তা, স্থিতিশীল রিটার্ন এবং ১০০% ট্যাক্স ফ্রি সুবিধার কারণে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনায় আজও অন্যতম সেরা বিকল্প।