আজকাল ওয়েবডেস্ক: অশান্ত মধ্য এশিয়া। প্রবাব পড়েছে তেল বাণিজ্যে। ফলে শেয়ার বাজারের অবস্থাও নড়বড়ে। কোটি কোটি টাকা জলে গিয়েছে। কিন্তু এই সর্বনাশেও অনেকের কাছে পৌষমাস! অনেকের কাছেই এটাই বিনিয়োগ করার সেরা সুযোগ। কীভাবে?

এখন প্রশ্ন হল- এককালীন টাকা ঢালবেন নাকি এসআইপি শুরু করবেন? বাজারে যখন অস্থিরতা চলে, তখন আপনার বিনিয়োগের কৌশল কেমন হওয়া উচিতয?

শেয়ার বাজারের অবস্থা যখন নিম্নমুখী, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা একে 'ডিসকাউন্ট সেল' হিসেবে দেখেন। সস্তায় ভাল মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার কেনার এটাই সেরা সময়। তবে বিনিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

এককালীন বিনিয়োগ 
যখন আপনি একবারে অনেকটা টাকা কোনও ফান্ডে বিনিয়োগ করেন, তাকেই লাম্প সাম বা এককালীন বিনিয়োগ বলে।

সুবিধা: বাজার যদি একদম তলানিতে থাকে এবং সেখান থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়, তবে লাম্প সাম বিনিয়োগে সবথেকে বেশি লাভ পাওয়া যায়।

ঝুঁকি: বাজার যদি আরও পড়ে যায়, তবে আপনার পুরো টাকার দর একধাক্কায় কমে যায় এবং সেই টাকা তুলতে অনেকটা সময় লাগতে পারে।

সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি
বাজারে পতনের সময় বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই এসআইপি-কে বেশি গুরুত্ব দেন। এর মূল কারণ হল 'রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং'।

কীভাবে কাজ করে ? 
ধরুন, মার্চ মাসে যখন নিফটি ২৪,৫০০ পয়েন্টে ছিল, তখন আপনি ৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলেন। পরের মাসে বাজার পড়ে নিফটি ২৪,০০০-এ নামলে, আপনার ওই একই ৫,০০০ টাকায় আপনি আগের থেকে বেশি 'ইউনিট' পাবেন।

সুবিধা: বাজার যত পড়বে, আপনি তত বেশি ইউনিট জমাতে পারবেন। ফলে বাজার যখন আবার বাড়তে শুরু করবে, আপনার লাভের পরিমাণ এককালীন বিনিয়োগের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আপনি কোন পথ বেছে নেবেন ?
আপনার কাছে যদি জমানো টাকা থাকে, তবে বিশেষজ্ঞরা একটি মিশ্র কৌশল প্রয়োগের কথা বলেন। যাঁদের কাছে বড় অংকের টাকা আছে কিন্তু ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন, তাঁরা এসটিপি (সিস্টেমেটিক ট্রান্সফার প্ল্যান) ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে টাকাটি প্রথমে একটি লিকুইড ফান্ডে রাখা হয় এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংশ ইকুইটি ফান্ডে ট্রান্সফার হয়। এতে এককালীনের নিরাপত্তা এবং এসআইপি-র সুবিধা, দু'টোই পাওয়া যায়।