আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে আরবিআই-এর অধীনে এসবিআই বা অন্য যেকোনও ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলা এখন অত্যন্ত সহজ হয়ে গিযেছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই নিজের নামে, সন্তানের নামে বা পরিবারের যেকোনও সদস্যের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। সম্প্রতি, আরবিআই তাদের এক্স  প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ভিডিও কেওয়াইসি-র সাহায্যে যে কেউ যেকোনও জায়গা থেকে, যেকোনও সময় একটি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে বা তাদের কেওয়াইসি আপডেট করতে পারবেন। এর জন্য শুধুমাত্র কয়েকটি প্রয়োজনীয় নথি শেয়ার করতে হবে।

ভিডিও কেওয়াইসি কীভাবে কাজ করে?
আরবিআই-এর মতে, ভিডিও কেওয়াইসি একটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং বৈধ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায়, একজন অনুমোদিত ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা একটি লাইভ ভিডিও কলের মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর পরিচয় যাচাই করেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য একটি সিকেওয়াইসি নম্বর, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ডিজিলকারে উপলব্ধ পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়। ভিডিও কেওয়াইসি-র সুবিধা হল, গ্রাহককে ব্যাঙ্কে যেতে হয় না এবং অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াটি দ্রুত ও সহজ হয়ে যায়। এই সুবিধাটি ব্যাঙ্কের নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায়।

সিকেওয়াইসি কী এবং তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সিকেওয়াইসি-র পূর্ণরূপ হলো সেন্ট্রাল কেওয়াইসি। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস যা ব্যাঙ্ক, বিমা কোম্পানি এবং এনবিএফসি-র মতো প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কেওয়াইসি তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করে। যখন কোনও ব্যক্তি প্রথমবার কেওয়াইসি সম্পন্ন করেন, তখন তিনি একটি ১৪-সংখ্যার অনন্য নম্বর পান, যাকে সিকেওয়াইসি বা কেআইএন নম্বর বলা হয়। সিকেওয়াইসি-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, একবার কেওয়াইসি করা হয়ে গেলে, নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমা বা বিনিয়োগ পণ্যের জন্য বারবার নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র আপনার কেআইএন নম্বর দিলেই যথেষ্ট, এবং গ্রাহকের তথ্যে কোনও পরিবর্তন না থাকলে সহজেই অ্যাকাউন্ট বা পরিষেবাটি পাওয়া যায়।

কোন কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য সিকেওয়াইসি প্রয়োজন?
আরবিআই, সেবি, আইআরডিএআই এবং পিএফআরডিএ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা সমস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিকেওয়াইসি-র আওতাভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্ক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট, বিমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং পেনশন পরিষেবা।

সিকেওয়াইসি কীভাবে সম্পন্ন করা হয়?
যখন কোনও গ্রাহক ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পরিষেবা গ্রহণ করেন, তখন সেই প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কেওয়াইসি তথ্য সিইআরএসএআই -এর কাছে নিবন্ধন করে। 

এর জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত নথিগুলির প্রয়োজন হয়:
প্যান কার্ড, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ (আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার আইডি ইত্যাদি), এবং একটি পাসপোর্ট আকারের ছবি। কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, গ্রাহককে এসএমএস বা ইমেলের মাধ্যমে একটি কেআইএন নম্বর প্রদান করা হয়।

এই নতুন নিয়মটি আপনার ঘরে বসেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং কেওয়াইসি বিবরণ আপডেট করাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করে তুলেছে।