আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বের প্রাচীনতম নিরাপদ সম্পদের দিকে বিনিয়োগকারীদের ঠেলে দিয়েছে। এর ফলে সোনার বাজার মূল্য বিস্ফোরিত হয়ে ৩০-৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ‘অর্থনীতি’ হয়ে উঠেছে। যা ভারত ও ব্রিটেনের সম্মিলিত জিডিপির চেয়েও বেশি। ইরানে মার্কিন-সমর্থিত ইজরায়েলি হামলা এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার পর থেকে এই উত্থান আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার ঢেউ ওঠায় বিনিয়োগকারীরা সোনায় আরও বেশি করে বিনিয়োগ করা শুরু করেছেন।

আন্তর্জাতিক সোনার মানদণ্ড প্রতি আউন্স ৫,৪০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে এবং ৫,৬০০ ডলারের কাছাকাছি রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রয় এবং মহামারী-পরবর্তী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কার কারণে সোনার দামের বৃদ্ধিতে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে। এর ফলে সোনার মূল্য গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ভারত এবং ব্রিটেনের সম্মিলিত জিডিপি (প্রায় ৮ থেকে ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)-র অনেক বেশি।

সোনা মাত্র ১৩ বছরের ট্রেডিং বেস ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। ১৯৭২ এবং ২০০৫ সালে ছয় থেকে আট বছর ধরে চলা বড় দাম বৃদ্ধির মতোই। এক দশক পরে ঘুরে দাঁড়ানোর পর এটি স্টক এবং ক্লাসিক ৬০/৪০ পোর্টফোলিও উভয়কেই ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা একে ‘অর্থনৈতিক দৈত্য’ বলে অভিহিত করছেন। ইরান-যুদ্ধ সেই দৈত্যকেই তৈরি করেছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিস্ফোরিত হলে সম্পদের এক বিশাল ভাণ্ডার যা প্রসারিত হয়।

বাজারগুলি রিয়েল টাইমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। প্রতিটি উত্তেজনাপূর্ণ শিরোনাম, উপসাগর জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি, অথবা জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর আক্রমণ, শেয়ার বিক্রি এবং সোনায় নতুন বিনিয়োগকে ট্রিগার করেছে। এই সংঘাত অন্য পণ্যগুলিকেও ধাক্কা দিয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারের পতন দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণের ঝুঁকির আশঙ্কা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বে বিনিয়োগকারীরা সোনাকে চূড়ান্ত নিরাপদস্থল হিসেবে দেখছেন।

এই পরিবর্তনের মাত্রা স্পষ্ট। ভারত তার অর্থনীতি দ্বিগুণ করার জন্য এক দশকের বেশি সময় ব্যয় করেছে। এখনও ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অতিক্রম করতে বেশ খানিকটা পথ অতিক্রম করতে হবে। ব্রিটেনের জিডিপি ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তুলনায়, সোনার এখন এমন একটি মূল্য রয়েছে যা সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। কেবল ভয়ের কারণে বেড়ে চলেছে ধাতুটির দাম।

তবে, সোনার এই দৌড় দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বেশ সন্দিহান। ইরান যুদ্ধের তীব্রতা হ্রাস, শক্তিশালী বৃদ্ধি অথবা উচ্চতর প্রকৃত সুদের হার এর দামে সংশোধন আনতে পারে। তবে অনেকের যুক্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঞ্চয়, দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রচলিত মুদ্রার প্রতি  অবিশ্বাস, সোনার মুদ্রাকে একটি আনুষ্ঠানিক সম্পদ হিসেবে বজায় রাখবে।